মোবাইল ফোনের মতোই এবার বিদ্যুতের ব্যবহারেও আসতে চলেছে আমূল বদল। টাকা ফুরালে যেমন ফোনের আউটগোয়িং বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক তেমনই এবার প্রয়োজন অনুযায়ী টাকা ‘রিচার্জ’ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হবে রাজ্যের বাসিন্দাদের।
2
15
পশ্চিমবঙ্গে এবার পুরোপুরি চালু হতে চলেছে প্রিপেইড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা। শনিবার রাজ্যে এসে এই সিদ্ধান্তের কথা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় বিদ্যুৎ ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর।
3
15
আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে বাংলায় অন্তত দু’কোটি স্মার্ট মিটার লাগানোর জন্য রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
4
15
সূত্রে খবর, আগামী জুলাই মাস থেকেই পুরোদমে এই স্মার্ট মিটার বসানোর কাজ শুরু হতে চলেছে। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানি অবশ্য ইতিমধ্যেই সরকারি দপ্তর, বড় শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান এবং বেশ কিছু গৃহস্থের বাড়ি মিলিয়ে প্রায় ৭ লক্ষ স্মার্ট মিটার বসিয়ে ফেলেছে।
5
15
বিদ্যুৎ দপ্তর জানিয়েছে, প্রতিটি স্মার্ট মিটারের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ৯০০ টাকা করে অনুদান দেবে। তবে গ্রাহকদেরও এর জন্য পকেটের কড়ি খসাতে হবে। আগামী ৯১ মাস ধরে প্রতি মাসে ১০০ টাকা করে অতিরিক্ত খরচ দিতে হবে গ্রাহকদের।
6
15
প্রযুক্তির হাত ধরে বিদ্যুতের দুনিয়ায় এটি এক মস্ত বড় বদল। এই মিটারে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ‘আইওটি’ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
7
15
এর জেরে বিদ্যুৎ দপ্তরের কোনও কর্মীকে আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে রিডিং লিখে আনতে হবে না, দূর থেকেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিডিং নেওয়া যাবে।
8
15
সাধারণত এই মিটারগুলি পোস্টপেইড পদ্ধতিতে কাজ করলেও, নতুন ব্যবস্থায় এতে প্রিপেইড রিচার্জের সুবিধাও থাকছে।
9
15
সবচেয়ে বড় সুবিধা হল, গ্রাহক ও বিদ্যুৎ কোম্পানি- উভয় পক্ষই প্রতি মুহূর্তের বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্ভুল হিসাব জানতে পারবেন।
10
15
গ্রাহকরা নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ বা মিটারের ডিসপ্লের মাধ্যমে নিজেরাই নজর রাখতে পারবেন ঠিক কতটা বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে। কোথাও বিদ্যুৎ বিভ্রাট হলে বা লাইনে গোলমাল দেখা দিলে, তাও নিমেষে ধরা পড়বে এই প্রযুক্তিতে।
11
15
আগে অনেক সময়ই গ্রাহকদের অভিযোগ থাকত যে, দপ্তর থেকে অনুমানের ভিত্তিতে ভুল বা কাল্পনিক বিল পাঠানো হচ্ছে। নতুন স্মার্ট মিটারে সেই আশঙ্কা একপ্রকার নেই বললেই চলে। যতটুকু বিদ্যুৎ খরচ হবে, ঠিক ততটুকুরই দাম মেটাতে হবে।
12
15
তবে এই নতুন ব্যবস্থা ঘিরে ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মনে দানা বেঁধেছে তীব্র ক্ষোভ ও আশঙ্কা। বহু গ্রাহকেরই দাবি, এই নতুন মিটার বসার পর থেকেই বিদ্যুতের বিল এক ধাক্কায় অনেকটা বেড়ে গেছে।
13
15
অভিযোগ, বিদ্যুতের দামের পাশাপাশি মিটারের চড়া ভাড়া গুনতে হচ্ছে। সঙ্গে রয়েছে অতিরিক্ত ডিমান্ড চার্জ ও ভ্যাট।
14
15
সব মিলিয়ে মাসের শেষে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়ছে।
জনমানসে একটি বড় অংশের বিশ্বাস, এই প্রিপেইড স্মার্ট মিটারগুলি সাধারণ মিটারের চেয়ে অনেক দ্রুত ঘোরে, যার ফলে বেশি ইউনিট পুড়ছে।
15
15
যদিও আমজনতার এই আশঙ্কার কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে বিদ্যুৎ দপ্তর। তাদের স্পষ্ট দাবি, এই মিটারগুলি সাধারণ মিটারের মতোই নির্ভুলভাবে বিদ্যুৎ খরচ রেকর্ড করে, কম বা বেশি দেখানোর কোনও প্রযুক্তিগত সুযোগ এতে নেই।