আজকাল ওয়েবডেস্ক: 'বিনা কারণে' ২৭ জন কর্মীকে থানায় ডেকে 'হুমকি' দেওয়ার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে৷ পুলিশের এই অতিসক্রিয়তার প্রতিবাদে এ বার সরাসরি থানা ঘেরাওয়ের ডাক দিলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শুভেন্দুর অভিযোগ, "স্রেফ বিজেপি করার ‘অপরাধে’ দলের ২৭ জন কর্মীকে থানায় ডেকে পাঠিয়ে 'হুমকি' দেওয়া হয়েছে।"
অন্যদিকে, বিজেপির এই অভিযোগ অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রশাসনের দাবি, আইনশৃঙ্খলার স্বার্থে সাধারণ তদন্তের জন্য কয়েকজনকে ডাকা হতে পারে, তার সঙ্গে রাজনীতির কোনও যোগ নেই। কাউকে হুমকি দেওয়ার খবরও অস্বীকার করেছে থানা।
ভোটের প্রচার থেকে সটান থানায় হাজির হলেন শুভেন্দু। বাঁধালেন তুলকালাম৷ গেরুয়া শিবিরের অভিযোগ, গত কয়েক দিন ধরে ভবানীপুর এলাকার বিজেপি কর্মীদের টার্গেট করছে পুলিশ। কোনও প্ররোচনা ছাড়াই অন্তত ২৭ জন কর্মীকে থানায় তলব করা হয়েছে। কর্মীদের অভিযোগ, থানায় ডাকার পর তাঁদের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং বিজেপি ছাড়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। পদ্ম শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, "পুলিশের এই আচরণ আসলে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়।" এদিকে পুলিশ সরাসরি অস্বীকার করে দেয় এই অভিযোগ৷
দলীয় কর্মীদের এই ‘হেনস্থা’র খবর পেয়েই ময়দানে নেমেছেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়েছেন, পুলিশের এই ‘দাদাগিরি’ মুখ বুজে সহ্য করা হবে না। আজই তাঁর নেতৃত্বে ভবানীপুর থানা ঘেরাও করবেন বিজেপি কর্মীরা। শুভেন্দুর কথায়, “পুলিশ এখন তৃণমূলের ক্যাডারের মতো কাজ করছে। কেন আমাদের কর্মীদের বিনা দোষে থানায় ডেকে হুমকি দেওয়া হবে? এর হিসেব আমরা বুঝে নেব।”
প্রসঙ্গত, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গিয়েছে। মঙ্গলবারই নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তার আগে ভবানীপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেওয়ালে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে দেওয়াল লিখন সেরে ফেললেন সেখানকার তৃণমূল কর্মীরা। ইতিমধ্যে এই কেন্দ্র থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারি। সেখানে পিছিয়ে থাকতে নারাজ তৃণমূল কর্মীরাও।
মঙ্গলবার সকাল থেকে একেরপর এক বিভিন্ন জেলায় যোগদান কর্মসূচি সংগঠিত করেছেন ঘাসফুল শিবির। সকালে পার্থ ভৌমিক, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে যে যোগদান কর্মসূচি শুরু হয়, সেখানেই দুপুরের দিকে হঠাৎই খবর আসে, তৃণমূল সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি পবিত্র কম তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। শুভেন্দুর খাস তালুক নন্দীগ্রামে তাঁকে প্রার্থী করতে পারে তৃণমূল।
রবিবারের ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার পর, সোমবার বাম-বিজেপি আংশিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। এবার প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
এবারে পশ্চিমবঙ্গে দুই দফায় বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল ও দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। ভোট গণনা ৪ মে। ইতিমধ্যে রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী এসেছে। আরও বিপুল সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী ভোটের আগেই রাজ্যে চলে আসবে। পাশাপাশি, দ্রুতগতিতে চলছে এসআইআর প্রক্রিয়া। বিচারাধীন ৬০ লক্ষ ভোটারের মধ্যে সোমবার পর্যন্ত প্রায় ২০ লক্ষ ভোটারের ভাগ্যের নিস্পত্তি হয়েছে। কমিশনের তরফ থেকে বলা হয়েছে, প্রতিদিন এক থেকে দেড় লক্ষ বিচারাধীন ভোটারের যাচাই প্রক্রিয়া চলছে। ফলে দ্রুত এই কাজ শেষ হবে। যদিও রাজ্যের দুই বিরোধী দল, সিপিআইএম এবং বিজেপি দাবি জানিয়ে রেখেছে, এসআইআর প্রক্রিয়া শেষ না করা পর্যন্ত কোনওভাবেই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করা যাবে না।
রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দামাম বেজে গিয়েছে। সেখানে প্রতিটি দলই নিজেদের মতো করে ঘর গোছাতে ব্যস্ত। সেখানে বিজেপি এবং বামেরা ইতিমধ্যেই নিজেদের প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। তবে ভবানীপুরে ইতিমধ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নামে দেওয়াল লিখন শুরু হয়ে গিয়েছে। সমর্থকরা মনে করেন এখানে শুভেন্দু অধিকারী হারবেন। সেজন্যেই তিনি নন্দীগ্রাম থেকেও ভোটে লড়ছেন। সবমিলিয়ে ভোটের উত্তাপ নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তাল।
