আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে সবথেকে বেশি ভোটে সামশেরগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নূর আলমকে জেতানোর দায়িত্ব নিলেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের কংগ্রেস সদস্য! শুনতে অবাক লাগলেও বুধবার এমনই ঘোষণা করেছেন মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদ সদস্য আনারুল হক বিপ্লব। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের ৪ নম্বর আসন থেকে কংগ্রেসের টিকিটে লড়াই করে জয়ী হন সামশেরগঞ্জের বাসিন্দা তথা জঙ্গিপুরের তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ খলিলুর রহমানের ভাইপো আনারুল হক বিপ্লব। যদিও বছর ঘুরতেই নিজের 'ভুল' বুঝে তৃণমূলে ফিরে এসেছেন বিপ্লব।
মঙ্গলবার বিকেলে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা হওয়ার মাত্র কয়েক ঘন্টা আগে জঙ্গিপুর জেলা নেতৃত্বের হাত ধরে রাজ্যের শাসক দল, তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন বিজলী বিড়ির কর্ণধার নূর আলম। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই নূর, সামশেরগঞ্জ বিধানসভার বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট পথসভা এবং কর্মীদের মধ্যে জনসংযোগ শুরু করেছেন।
গত বিধানসভা নির্বাচনে সামশেরগঞ্জ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন জঙ্গিপুর সাংগঠনিক জেলা আইএনটিটিইউসি সভাপতি আমিরুল ইসলাম। তবে এবার তাঁর আসন বদল করে ফরাক্কায় পাঠিয়েছে দল। সামশেরগঞ্জের 'বাহুবলী' নেতা বিপ্লবের সঙ্গে আমিরুলের সম্পর্ক বরাবরই 'অম্লমধুর' ছিল। দুই নেতার সমর্থকদের প্রকাশ্য দ্বৈরথ একাধিকবার দেখেছে সামশেরগঞ্জবাসী। তৃণমূলের অন্দরের খবর, বিপ্লবকে কংগ্রেস থেকে দলে ফিরিয়ে নেওয়া কখনই মন থেকে মেনে নিতে পারেননি আমিরুল। তবে আমিরুলের আসন বদল হতেই 'ভাই-বন্ধু' নূরের হয়ে ভোটের ময়দানে প্রথম দিন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়লেন বিপ্লব। মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের সদস্য আনারুল হক বিপ্লব কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে প্রচারে নামলেন তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী নূর আলম-এর সমর্থনে।
বুধবার সকালে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলো এলাকায় অবস্থিত বিপ্লবের কার্যালয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নিজের অনুগামীদের নিয়ে বৈঠক করে নূর আলমকে জেতাতে সর্বশক্তি প্রয়োগের বার্তা দেন তিনি। কর্মীসভা থেকে বিপ্লব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “নূর আলম আমার বন্ধু ও ভাই। তাঁকে মুর্শিদাবাদ জেলার মধ্যে রেকর্ড ব্যবধানে জেতানোর লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠে নেমেছি। নূরকে যদি সবথেকে বেশি ভোটে জেতাতে না পারি তাহলে আমি রাজনীতি ছেড়ে দেবো।” তাঁর এই মন্তব্যে কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়।
বিপ্লব বলেন, "সামশেরগঞ্জের মানুষের ইচ্ছে ছিল তৃণমূল দল আমাকে বিধানসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্রে প্রাথী করবে। কিন্তু দল যেটা ভালো মনে করেছে সেটাই ঠিক। দলের সিদ্ধান্ত আমাদের সিদ্ধান্ত। আমি এবং নূর একই কয়েনের এপিঠ আর ওপিঠ। নূর প্রার্থী হওয়া মানেই আমার প্রার্থী হওয়া।"
কর্মীদের উদ্দেশ্যে বার্তা দিয়ে বিপ্লব বলেন ,"আমি প্রার্থী হলে যেমন খাটতাম , নূর আমার ভাই এবং বন্ধু , ওর জন্যও একই রকম খাটবো। প্রচারে আমরা গোটা মুর্শিদাবাদ জেলায় তাক লাগিয়ে দেবো।" বিপ্লব কর্মীদের উদ্দেশ্যে দলীয় ঐক্য বজায় রাখার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, "ঘরে ঘরে পৌঁছে মানুষের সমর্থন আদায় করতে হবে।" প্রার্থী কোনও এলাকায় গিয়ে কারও সঙ্গে দেখা না করলে সে যেন রাগ করে ঘরে বসে না থাকেন -এই বার্তাও বুধবার দলীয় কর্মীদের দেন বিপ্লব। পাশাপাশি তাঁর ঘোষণা, "নূর রাজনীতিতে নতুন এসেছে। ও সামনের দিকটা দেখে নিক ,বাকি গোটা ব্লক এবং বিধানসভা আমরা সবাই দেখে নেবো।" জেলা পরিষদ সদস্যের এই বার্তাকে স্বাগত জানিয়ে নূর বলেন ,"আমরা সকলে এক সঙ্গে লড়াই করলে সামশেরগঞ্জ কেন্দ্রে আমার জয় কেবল সময়ের অপেক্ষা।"
