মনিরুল হক, কোচবিহার: বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে উঠেছে। রবিবার নরেন্দ্র মোদির জনসভার পর থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় অশান্তির অভিযোগ সামনে এসেছে। বিজেপির দাবি, তাদের কর্মীদের উপর তৃণমূলের পক্ষ থেকে হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের অভিযোগ, বিজেপির দুষ্কৃতীরাই এলাকায় বোমাবাজি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।

নাটাবাড়ি বিধানসভার পানিশালা গ্রাম পঞ্চায়েতের ধোলুয়াবাড়ি এলাকায় তিনটি বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। বিজেপি কর্মীদের দাবি, তাঁরা মোদির সভা থেকে ফিরে আসার পর গভীর রাতে তৃণমূল কর্মীরা বাইক নিয়ে এসে হামলা চালান। আক্রান্তদের অভিযোগ, তাঁদের মারধর করা হয়, গালাগালি দেওয়া হয় এবং বাড়িতে ঢিল ছোড়া হয়। 

বচ্চন ভৌমিক নামে এক বিজেপি কর্মী বলেন, “রাত ১২টার পর ২০-২৫ জনের একটি দল আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। টিনের গেট ভেঙে দেয়, পরিবারের সদস্যদের ভয় দেখায়।” 

বিশ্বজিৎ পাল নামে আর এক কর্মীর অভিযোগ, "ঘুমোতে যাওয়ার সময় হঠাৎ কয়েকটি বাইক এসে দাঁড়ায়। প্রতিবাদ করতেই দাদাকে মারধর করা হয়। পুলিশ আসার আগেই তারা পালিয়ে যায়।” 

যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। কোচবিহার-১ ব্লকের সভাপতি আব্দুল কাদের দাবি করেন, “ওরা নিজেরাই নেশা করে গণ্ডগোল পাকিয়েছে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন।” 

অন্যদিকে, একই রাতে কোচবিহার-১ ব্লকের ঘুঘুমারি এলাকায় বোমাবাজির অভিযোগ উঠেছে বিজেপির বিরুদ্ধে। তৃণমূলের জেলা মহিলা সভানেত্রী সুচিস্মিতা দেব শর্মা-র বাড়ির সামনে একাধিক বোমা ফাটানো হয় বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে একটি তাজা বোমাও উদ্ধার করেছে পুলিশ। 

সুচিস্মিতা দেব শর্মা জানান, “রাত ১২টা নাগাদ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। আমাদের এলাকায় ১৫-২০টি বোমা ফাটানো হয়েছে। ভোটের আগে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেই এই কাজ করা হয়েছে।” 

পাল্টা অভিযোগ করেছেন বিজেপির নেত্রী দীপা চক্রবর্তী। তাঁর দাবি, “তৃণমূল নিজেদের পরাজয় বুঝে গিয়েছে। তাই মিথ্যা অভিযোগ তুলে বিজেপিকে বদনাম করার চেষ্টা করছে।” 

এই ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। ভোটের আগে এই ধরনের অশান্তি প্রশাসনের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।