আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে মুর্শিদাবাদের সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে এখনও কংগ্রেস দল নিজেদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে না পারায় বুধবার বিকেলে সাগরদিঘি ব্লক কংগ্রেস কার্যালয়ে এসে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়লেন জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী।
সূত্রের খবর, ব্লক কংগ্রেস কমিটি এবং স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বকে না জানিয়ে কয়েকজন কংগ্রেস নেতার সঙ্গে আলোচনা করার জন্য অত্যন্ত 'গোপনে' সাগরদিঘি ব্লক কংগ্রেস অফিসে এসেছিলেন মনোজ চক্রবর্তী। জেলা কংগ্রেস সভাপতির দলীয় অফিসে আসার খবর পেয়ে প্রচুর কংগ্রেস সমর্থক সেখানে জড়ো হয়ে যান এবং তাঁকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় মানোজকে ঘিরে কংগ্রেস কর্মীদের বিক্ষোভ চলে।
বিক্ষোভরত কর্মীরা দাবি করতে থাকেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে ততক্ষণ তাঁরা মনোজ চক্রবর্তীকে দলীয় অফিস থেকে বের হতে দেবেন না।
প্রসঙ্গত, ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনে সাগরদিঘি কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন সুব্রত সাহা। তাঁর মৃত্যুতে এই আসনটি খালি হলে উপ-নির্বাচনে কংগ্রেসের প্রতীকে জয়ী হয়েছিলেন বায়রন বিশ্বাস। যদিও কংগ্রেসের টিকিটে জয়ের কিছুদিনের মধ্যেই দলবদল করে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন বায়রন।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বায়রনকে ফের একবার তৃণমূল কংগ্রেস সাগরদিঘি কেন্দ্রে তাদের দলের প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে। অন্যান্য প্রায় সব রাজনৈতিক দল সাগরদিঘি কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে দিয়ে ভোটের মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার কাজ শুরুর পরেও জাতীয় কংগ্রেস এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে পারেনি। এই কেন্দ্রগুলো হল সাগরদিঘি, বেলডাঙা এবং ফরাক্কা।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে মনোজবাবু বহরমপুর কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তৃতীয় স্থানে ছিলেন। তিনি বহরমপুর থেকে সাগরদিঘি কেন্দ্রে এসে প্রার্থী হতে পারেন এমন সম্ভাবনা তৈরি হতেই কংগ্রেস কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন বলে সূত্রের খবর। বেশিরভাগ কংগ্রেস কর্মীর দাবি, সাগরদিঘির কোনও ভূমিপুত্রকে ওই কেন্দ্রে কংগ্রেসের প্রতীকে প্রার্থী করতে হবে। তাঁরা কোনও পরিস্থিতিতেই 'বহিরাগত' মনোজ চক্রবর্তীকে সাগরদিঘির প্রার্থী হিসেবে মেনে নেবেন না।
যদিও গোটা ঘটনাটিকে 'লঘু' করে দেখিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী বলেন, "এই ঘটনাকে আমি বিক্ষোভ বলতে রাজি নই। কিছু কংগ্রেস কর্মী তাঁদের দাবি আমাকে জানিয়েছেন। কিন্তু এভাবে কংগ্রেস প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা সম্ভব নয়। কংগ্রেস প্রার্থীদের নাম এআইসিসির তরফ থেকে ঘোষণা করা হয়।"
















