বিউ সরকার, কলকাতা: কথায় আছে মাছে ভাতে বাঙালি। বাঙালি মানেই খাদ্য রসিক। বিশেষ করে বাংলা নববর্ষে বাঙালির পাতে মাছ ছাড়া অসম্পূর্ণ। এবার সেই বাঙালির প্রিয় খাদ্য মাছ নিয়ে টানাটানি ভোটের লড়াইতে। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ইস্যু মাছ। শুধুমাত্র মাছ নয়, এবারের নির্বাচনে বাঙালির অস্মিতাকে শান দিতে প্রস্তুত তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি দুই যুযুধান দল। বিজেপিকে বাংলা বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করতে তৎপর হয়েছে বারংবার তৃণমূলের সুপ্রিমো তথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি, অভিষেক ব্যানার্জি থেকে অন্যান্য নেতা নেত্রীরা সকলেই। কখনও বিজেপিকে বহিরাগত বলে তোপ দেগেছেন। কখনও বাংলা সংস্কৃতি জানে না বলে অভিযোগ। এখন সর্বশেষ বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাছ মাংস খেতে দেবে না এই তত্ত্ব। এই তত্ত্বকে উড়িয়ে দিয়ে বিজেপি প্রার্থীরাও মাছ নিয়ে প্রচারে ময়দানে নেমেছে।


এবার বাংলা নববর্ষের আগে উত্তর কলকাতার মানিকতলা বিধানসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডে বাঙালির অস্মিতাকে শান দিতেই আয়োজন করা হয়েছিল বাঙালি সংস্কৃতি অনুষ্ঠান। এবং সেখানে যেমন শঙ্খধ্বনি দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। মহিলা ঢাকির আর ঢাক বাজান নানা রকম নাচ গান এর অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল তার পাশাপাশি মূল থিম এর মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছিল  'মাছে ভাতে বাঙালি'। সেখানে একজন মাছ বিক্রেতা জ্যান্ত রুই- কাতলা ইলিশ- চিংড়ি সমাহার নিয়ে বিক্রি করছিলেন। যেমন, ফুটবলের ময়দানে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ডার্বি হয় তখন ইলিশ চিংড়ি নিয়ে দুই দলের সমর্থকদের লড়াই হয় তেমনি এবারও দুই যুযুধান দলের মধ্যে মাছ ও বাঙালি সংস্কৃতি নিয়ে আক্রমণ করছেন। 


এসেছিলেন মানিকতলা বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শ্রেয়া পান্ডে। তিনি আজকাল ডট ইনকে জানিয়েছেন, ‘বাঙালি মানেই মাছ। এটা আমরা সবসময় খাই। যারা অন্য সংস্কৃতিকে বিশ্বাস করে না। যারা একদম বাংলাকে চেনে না তারা এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেন। তিনি জানান বিজেপিকে প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনেই করেন না।’ 


শ্রেয়া পান্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মনে করেন বামফ্রন্টের সিপিআই প্রার্থী মৌসুমী ঘোষ। তিনি বলেন, ‘দুজনেই আমরা মহিলা। আমরা মানিকতলা বিধানসভার বাসিন্দা। তাই আমার লড়াই মৌসুমীর সঙ্গে কোন বহিরাগত সঙ্গে নয়। মানিকতলা বিধানসভা বহিরাগতদের পছন্দ করেনা।' এই এলাকায় বিজেপি বলে কেউ নেই বলে জানান মানিকতলা বিধানসভা তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী।

 


হাতে বেশি সময় নেই। তারপরই প্রথম দফার ভোট। নির্বাচনের ময়দানে প্রতিটি দলই এখন নিজের প্রচারে ব্যস্ত। তবে এদিনের অনুষ্ঠান প্রমাণ করল বাঙালির চিরন্তন স্বাদ মাছ-ভাত। তাকে আক্রমণ করলে কেউ ছেড়ে কথা কইবে না। সেটা নির্বাচনের ময়দান হোক বা খাঁটি বাঙালির রান্নাঘর।