আজকাল ওয়েবডেস্ক: সোমবার কৃষ্ণনগরে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনে এক অদ্ভুত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিজেপি কর্মী ও সমর্থকদের ভিড় ক্রমশ বাড়তে থাকে। বাদ্যযন্ত্র, গেরুয়া পতাকা ও উচ্ছ্বাসে কার্যত জনসমুদ্রে পরিণত হয় কৃষ্ণনগরের একাধিক রাস্তা। সোমবার কালীগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রের প্রার্থী বাপন ঘোষ, কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রের তারক চ্যাটার্জি, কৃষ্ণনগর দক্ষিণের সাধন ঘোষ, নাকাশিপাড়া কেন্দ্রের শান্তনু দে এবং চাপরা কেন্দ্রের সৈকত সরকার তাঁদের মনোনয়ন জমা দিতে আসেন।
নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রথমে কৃষ্ণনগর পোস্ট অফিস মোড়ে একটি জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নেতাদের বক্তব্য কর্মীদের মধ্যে আরও উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস বাড়িয়ে তোলে। জনসভা শেষে প্রার্থীরা একটি বিশাল মিছিল নিয়ে জেলাশাসকের দপ্তরের উদ্দেশে রওনা দেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পরিক্রমা করতে করতে এগোতে থাকে। যাত্রাপথে গেরুয়া পতাকা, বেলুন, ঢাক ঢোল ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে পুরো শহর মুখরিত হয়ে ওঠে। এত বিপুল সংখ্যক কর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসনকেও যথেষ্ট তৎপর থাকতে দেখা যায়। তবে এই বিশাল মিছিলই শেষ পর্যন্ত সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। মনোনয়ন জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময় ছিল বিকেল তিনটে। কিন্তু শহরের বিভিন্ন রাস্তায় তীব্র যানজট তৈরি হওয়ায় প্রার্থীরা সময়মতো জেলাশাসকের দপ্তরে পৌঁছাতে পারেননি। সময় যত এগোতে থাকে, ততই বাড়তে থাকে উদ্বেগ। শেষমেশ সময় ফুরিয়ে আসার মুখে প্রার্থীদের দৌড়ে দপ্তরে প্রবেশ করতে হয়। এই হুড়োহুড়ি ও উত্তেজনার মধ্যেই তারা শেষ মুহূর্তে সফলভাবে নিজেদের মনোনয়ন জমা দিতে সক্ষম হন।
পুরো ঘটনাটি একদিকে যেমন কৃষ্ণনগরে বিজেপির রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের ছবি তুলে ধরেছে, অন্যদিকে সময় ব্যবস্থাপনার অভাব ও ভিড়ের চাপে কীভাবে সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে, তারও একটি স্পষ্ট উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
















