আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন একদম দোরগোড়ায়। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণায় জানা গিয়েছে, রাজ্যের মোট ২৯৪টি বিধানসভা আসনে দুই দফায় ভোট গ্রহণ করা হবে—প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল এবং দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। এর মধ্যে বীরভূম জেলায় প্রথম দফাতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে জোরকদমে প্রচারে নেমে পড়েছে সমস্ত রাজনৈতিক দল।
এই আবহেই বীরভূমের দুবরাজপুর বিধানসভা এলাকায় ঘটে গেল এক ব্যতিক্রমী ঘটনা, যা এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় রীতিমতো ভাইরাল। বিজেপি মনোনীত প্রার্থী অনুপ কুমার সাহা ভোট প্রচারে গিয়ে হঠাৎই এক ভিন্ন ভূমিকায় অবতীর্ণ হন—ক্ষৌরকারের ভূমিকায়!
ঘটনাটি ঘটেছে দুবরাজপুরের একটি গ্রামে। প্রচারের সময় অনুপ সাহা লক্ষ্য করেন, এক গ্রামবাসী মাটিতে বসে রয়েছেন। তিনি এগিয়ে গিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলেন এবং জানতে চান তিনি সেখানে বসে কী করছেন। উত্তরে ওই ব্যক্তি জানান, সেদিন কোনও কাজ পাননি, তাই সময় কাটানোর জন্য দাড়ি-গোঁফ কাটার কথা ভাবছিলেন।
এরপরই অপ্রত্যাশিতভাবে প্রার্থী নিজেই হাতে তুলে নেন দাড়ি কামানোর যাবতীয় জিনিস। উপস্থিত সকলকে অবাক করে দিয়ে তিনি নিজেই অত্যন্ত যত্ন সহকারে ওই ব্যক্তির দাড়ি ও গোঁফ কেটে দেন। পুরো ঘটনাটি সেখানে উপস্থিত এক যুবক মোবাইল ফোনে ভিডিও করে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন। আর তারপরেই সেই ভিডিও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে।
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই শুরু হয়েছে নানা প্রতিক্রিয়া। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ভোটের সময় এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ বা প্রচার কৌশল নতুন কিছু নয়—এভাবেই সাধারণ মানুষের মন জয় করার চেষ্টা করেন প্রার্থীরা। আবার অন্য একাংশের মতে, এই ঘটনাই প্রমাণ করে বিজেপি প্রার্থী সাধারণ মানুষের পাশে থাকতে চান এবং তাদের দৈনন্দিন সমস্যার কথাও ভাবেন।
তবে রাজনৈতিক কটাক্ষও কম হয়নি। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্ব এই ঘটনাকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে। তাঁদের দাবি, এ ধরনের কাজ আসলে ভোটারদের প্রভাবিত করার কৌশল মাত্র এবং এতে মানুষের আস্থা অর্জন করা সম্ভব নয়। তাঁরা আরও দাবি করেছেন, মানুষ ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন—এবারও রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেসই সরকার গঠন করবে এবং ২৯৪টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক আসন তাদের ঝুলিতেই যাবে।
প্রসঙ্গত, দুবরাজপুর বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন বিদায়ী তথা জেলার একমাত্র বিজেপি বিধায়ক অনুপ সাহা। তাঁর দাবি, সারা বছর তিনি মানুষের পাশে থেকে জনসংযোগের মাধ্যমে কাজ করে গিয়েছেন এবং নিজের বিধানসভা এলাকায় যা যা করণীয়, তা সাধ্যমতো করার চেষ্টা করেছেন।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে এবার নির্বাচনে লড়ছেন নরেশ চন্দ্র বাউরি। তিনি একসময় ওই এলাকারই বিধায়ক ছিলেন। তবে গতবার বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট না পাওয়ায় ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে অনুব্রত মণ্ডলের দূরত্ব তৈরি হয়। পরবর্তীতে তিনি কাজল শেখের ঘনিষ্ঠ মহলে যোগ দেন এবং রাজনৈতিকভাবে নতুন সমীকরণ তৈরি করেন। সেই পরিবর্তিত সমীকরণের ফলস্বরূপই এবার দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রার্থী হিসেবে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মত।
এই প্রেক্ষাপটে দুবরাজপুরে বিজেপি ও তৃণমূল—উভয় পক্ষই জোরদার প্রচারে নেমেছে। একদিকে অনুপ সাহার এই ব্যতিক্রমী প্রচার কৌশল, অন্যদিকে নরেশ বাউরির রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে দুবরাজপুর বিধানসভা কেন্দ্র এখন অত্যন্ত চর্চিত ও নজরকাড়া লড়াইয়ের মঞ্চে পরিণত হয়েছে। ভোটের ফলাফল কী হবে, তা সময়ই বলবে, তবে আপাতত এই ‘দাড়ি কাটা’ ঘটনাই নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম আলোচিত অধ্যায় হয়ে উঠেছে।
