মিল্টন সেন, হুগলি: বহিরাগত প্রার্থীকে চাইছেন না দলের কর্মীরাই। হুগলির চাঁপদানিতে বিজেপি প্রার্থী নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে। প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের ব্যানার টাঙানো হলো বিভিন্ন জায়গায়। লেখা হয়েছে, "বহিরাগত প্রার্থী, দিলীপ সিংকে মানছি না মানবো না"। 

 

এই ব্যানারে ছেয়ে ফেলা হয়েছে চাঁপদানী। একদিকে বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকারকে মানতে না পেরে বিজেপি কর্মীরা হুগলি জেলা বিজেপি অফিসে ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখান। অন্যদিকে শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার অন্তর্গত চাঁপদানি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দিলীপ সিংকে নিয়ে বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভ প্রকাশ্যে। 

 

প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফ্লেক্স ব্যানার লাগনোকে কেন্দ্র করে বিজেপির দুই গোষ্ঠীর মধ্যে হাতাহাতিও দেখলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। চাঁপদানি বিধানসভায় প্রার্থী করা হয়েছে দিলীপ সিংকে। ২০২১ সালেও তাঁকে টিকিট দিয়েছিল বিজেপি। এবারে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী অরিন্দম গুইনের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। 

 

সম্প্রতি বিজেপির প্রার্থী ঘোষণার পরে প্রচার শুরু করেছেন দিলীপ সিং। কিন্তু প্রচারের শুরুতেই বাঁধার মুখে পড়লেন। দেখলেন দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধেই ব্যানার ঝোলাচ্ছেন দলের কর্মীরা। আর সেই ব্যানারে লেখা রয়েছে “বহিরাগত প্রার্থী দিলীপ সিং কে মানছি না, মানবো না”। নীচে লেখা রয়েছে চাঁপদানী বিধানসভা বিজেপি কর্মীবৃন্দ। 

 

সেই ব্যানার একদল টাঙিয়ে দেওয়ার পর একদল খুলে দিতে গেলে শুরু হয় তীব্র বাকবিতণ্ডা। চলতে থাকে অশ্রাব্য গালিগালাজ সঙ্গে ধাক্কাধাক্কি। উত্তপ্ত হয়ে উঠে গোটা এলাকা। দিলীপ বিরোধী বিজেপি কর্মীদের অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের টাকা খেয়ে তাঁরা এই কাজ করছেন। পরে দুই পক্ষই পুলিশের দ্বারস্থ হয়।

 

এই প্রসঙ্গে চাঁপদানীর তৃণমূল প্রার্থী অরিন্দম গুইন বলেন, "বিজেপির যিনি প্রার্থী তাঁর বিরুদ্ধে শহর জুড়ে ৪০টা ব্যানার লাগানো হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষোভ বিক্ষোভ এটা সাধারণ ব্যাপার। কারণ তাঁকে সারা বছর খুঁজে পাওয়া যায় না। যে কথাটা আমরা বলি সেটা আজ তাঁরাই বলছেন। সাধারণ মানুষ দেখছেন রাস্তায় তাঁদের মধ্যে ঝামেলা হচ্ছে। ওই রাজনৈতিক দলের কর্মীদের মধ্যে কোনও শৃঙ্খলা নেই। সবসময় ঝামেলা, গালাগাল, মারামারি করছেন। সাধারণ মানুষ কি ওদের ঝামেলা মেটাতে আসবেন। এদের নিজেদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মানুষ প্রকাশ্যে দেখতে পাচ্ছে। বিজেপির এক কর্মী প্রকাশ্যেই জানিয়েছেন বিজেপির তরফ থেকে দেওয়া প্রার্থী দিলীপ সিংকে তাঁরা মানছেন না। এই প্রার্থীকে ২০২১ সালেও দেওয়া হয়েছিল। এই প্রার্থী হেরে যাওয়ার পরে সাধারণ মানুষ দূরের কথা, কর্মীদের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ রাখেন না। তাঁরা এই প্রার্থীকে বয়কট করেছেন। পরিবর্তে তাঁরা ভূমিপুত্র প্রার্থীর দাবি তুলেছেন।"

ছবি পার্থ রাহা।