আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের বিপদ বাড়ল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীরের। জানা গিয়েছে, ‘রাষ্ট্রীয় অল্প সংখ্যক আরক্ষণ মোর্চা’-এর সর্বভারতীয় সভাপতি হাজি মহম্মদ পারভেজ সিদ্দিকী হুমায়ুনের বিরুদ্ধে শুক্রবার রাতে বীরভূমের সিউড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, হুমায়ুন কবীর টাকার বিনিময়ে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের মেরুকরণ করার চেষ্টা করছেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর গোটা ঘটনাকে তৃণমূল কংগ্রেসের ষড়যন্ত্র বলেই দাবি করেছেন। তিনি বলেন, ‘কিছু লোককে তৃণমূল কংগ্রেসের ভোট কুশলী সংস্থা দিল্লি থেকে টাকার বিনিময়ে ভাড়া করে নিয়ে এসেছে। তাঁরা ‘হাজি’ নাম নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এবং মুসলিম সমাজকে বিভ্রান্ত করার জন্য বিভিন্ন জায়গায় আমার বিরুদ্ধে কথা বলছেন।’
হুমায়ুনের অভিযোগ, ‘সিউড়ি থানায় যে ব্যক্তি অভিযোগ করেছেন, তিনি এর আগেও আমার বিরুদ্ধে রেজিনগর থানায় একটি অভিযোগ করেছেন। তবে গোটা বিষয়টিকে আমি একেবারেই গুরুত্ব দিচ্ছি না। আমি জামিন নেব না। আইন আইনের পথে চলবে।’
সিউড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে হাজি মহম্মদ পারভেজ সিদ্দিকী বলেন, ‘গত ১১ ফেব্রুয়ারি আমি হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। তখনই জানিয়েছিলাম, তাঁর বক্তব্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে।’
হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তারি দাবি করে ওই ব্যক্তি বলেন, ‘আমি সিউড়ি থানাতে একটি ‘জিরো এফআইআর’ রুজু করেছি এবং হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তারির দাবি জানাচ্ছি। বাবরি মসজিদ এই দেশে মুসলিমদের আস্থার প্রতীক। হুমায়ুন কবীর সেই আস্থা নিয়ে খেলা করার চেষ্টা করছেন।’
তাঁর অভিযোগ, ‘সম্প্রতি সমাজ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও থেকে পরিষ্কার বাবরি মসজিদ বানানো উদ্দেশ্য হুমায়ুনের উদ্দেশ্য ছিল না। ওনার আসল পরিকল্পনা ছিল ভোটে লড়া এবং ‘ফ্যাসিস্ট শক্তি’-কে দেশে বাড়তে সাহায্য করা।’
ওই ব্যক্তি আরও বলেন, ‘কলকাতার ময়দান থানায় গত ১১ ফেব্রুয়ারি তারিখে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলাম। বর্তমানে মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার পুলিশ যার তদন্ত করছেন। ভাইরাল ভিডিওতে আমরা দেখেছি, উনি কারও সঙ্গে ভোটে লড়ার জন্য ১০০০ কোটি টাকার ‘ডিল’ করছেন। সেখানে উনি বলেছেন, বাবরি মসজিদ বানানো ওনার উদ্দেশ্য নয়। এই বক্তব্যে সারা দেশের মুসলমানরা আহত হয়েছেন। সেই কারণে আমরা হুমায়ুন কবীরের গ্রেপ্তারি দাবি করছি।’
হাজি মহম্মদ পারভেজ সিদ্দিকী দাবি করেছেন, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই তাঁরা কলকাতার ময়দান থানা ছাড়াও মুর্শিদাবাদের রেজিনগর এবং বীরভূমের সিউড়ি থানায় মোট তিনটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। যার ভিত্তিতে এফআইআর রুজু হয়েছে।















