আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে পালাবদলের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে শুরু হয়ে গেল ' গৃহদাহ '। তৃণমূলের অন্দরে কোণঠাসা, টিকিট না-পাওয়া ও বিক্ষুব্ধ নেতারা একের পর এক মুখ খুলতে শুরু করেছেন। এবার দলের চরম বিপর্যয়ের জন্য সরাসরি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জির দিকে আঙুল তুললেন ফরাক্কার বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক মনিরুল ইসলাম।

২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ফরাক্কা থেকে তাঁকে টিকিট দেয়নি দল। পরিবর্তে সামশেরগঞ্জের আমিরুল ইসলামকে প্রার্থী করে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। শুরুতেই ক্ষোভে ফেটে পড়লেও পরে ' চাপের মুখে ' দলের বিরুদ্ধে সুর নরম করেন মনিরুল। কিন্তু রাজ্যে বিজেপির ‘অভাবনীয় সাফল্যে’র পর এবার কার্যত দলের বিরুদ্ধেই তোপ দাগলেন তিনি। বিজেপি সরকারকে ‘নৈতিক সমর্থন’ জানিয়ে মনিরুলের সাফ কথা, “পশ্চিমবাংলায় অহংকার আর ঔদ্ধত্বের পতন হয়েছে। ক্ষমতা কখনও চিরস্থায়ী নয়, এটা অভিষেক ব্যানার্জি বোঝেননি।”

একের পর এক বিস্ফোরক অভিযোগ করে মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের মতো বিধায়কদের যেভাবে অপমান করেছেন অভিষেক, তারই ফল ভোগ করছে গোটা দল। ভবিষ্যতে তৃণমূল টিকে থাকলেও ওঁর পক্ষে দল চালানো সম্ভব নয়।”

ব্যক্তিগত তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে মনিরুল বলেন, “আমি নিজে ক্যামাক স্ট্রিটে ওঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে দু’ঘণ্টা অপেক্ষা করে শেষে ওঁর কর্মচারীর সঙ্গে দেখা করে ফিরে এসেছি। বিধায়ক-সাংসদদের উনি নিজের চাকর মনে করতেন। এই অভিষেক ব্যানার্জির জন্যই আজ তৃণমূল ধুলিসাৎ হয়ে গিয়েছে।”

মনিরুলের দাবি, ভোটের আগে ৭৪ জন বিদায়ী বিধায়ককে বাদ দেওয়ার যে ‘ভুল’ অভিষেক করেছেন, তারই মাশুল দিতে হল দলকে। “ফরাক্কার মতো শিল্পাঞ্চলে আমাকে টিকিট না দেওয়ায় অন্তত ৫ হাজার মানুষ অভিমানে বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন,” দাবি তাঁর।

ফরাক্কার গুরুত্ব বোঝাতে মনিরুল বলেন, “মুর্শিদাবাদের শিল্পবলয় বলতে ফরাক্কাকেই বোঝায়। এখানে এনটিপিসি, অম্বুজা সিমেন্ট, ফরাক্কা ব্যারেজ রয়েছে। এই কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী সুনীল চৌধুরী জিতলেও মানুষের উপকার হত। কারণ উনি কাজের লোক।”

বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের ‘সন্ত্রাস নয়, সম্প্রীতির’ বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন মনিরুল। তাঁর কথায়, “উনি সন্ত্রাস না করার যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে ওঁর উপর আস্থা ও বিশ্বাস আরও বেড়ে গেল। উনি সম্প্রীতির কথা বলেছেন, যা তৃণমূল কোনওদিন বলেনি। উল্টে তৃণমূল ৪ তারিখের পর 'দেখে নেওয়ার' হুমকি দিয়েছে।”

তবে ফরাক্কার মনিরুল একা নন। ভোটে বিপর্যয়ের পর রাজ্যের একাধিক জেলা থেকে ব্লক সভাপতি, বিদায়ী বিধায়ক থেকে শুরু করে পরাজিত প্রার্থীরাও দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। মালদহের তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীর গলাতেও শোনা গিয়েছে বিক্ষোভের সুর।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২১-এ ২১৫ আসন পাওয়া তৃণমূল ২০২৬-এ ৮০-এ নেমে আসার পর দলের অন্দরে এই ‘ক্ষোভের বিস্ফোরণ’ হওয়ারই ছিল। প্রার্থী বাছাই, ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি, এবং জেলা নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয়ের অভাব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই চাপা অসন্তোষ ছিল। ভোটের ফল সেই বারুদের স্তূপে আগুন ধরিয়েছে মাত্র।