আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের বাদ্যি বাজতেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমে পড়ে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে লড়াইটা শুধু জনসভায় নয়, বরং তথ্যের লড়াইয়ে বিজেপি-কে এক ইঞ্চি জমিও ছাড়েনি জোড়াফুল শিবির। বিজেপি-র ‘প্রোপাগান্ডা’ রুখতে এবং নিজেদের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরতে রাজ্যজুড়ে এক বিশাল ‘মিডিয়া অপারেশন’ শুরু করে দল।

দলীয় সূত্রের খবর, প্রচার চলাকালীন প্রায় ৩০০-র বেশি সাংবাদিক বৈঠক করা হয়েছে। মূলত নরেন্দ্র মোদি এবং অমিত শাহের পালটা বয়ান দিতেই এই রণকৌশল। বিরোধীদের রুখতে তৃণমূল মূলত দু’টি স্তরে আক্রমণ সাজিয়েছে। কেন্দ্রীয় ইস্যুর ক্ষেত্রে সরাসরি কলকাতা থেকে এবং স্থানীয় ইস্যুর ক্ষেত্রে কলকাতা ও জেলা—উভয় স্তরেই সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জবাব দেওয়া হয়। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে আক্রমণ হয় তিন স্তরে— প্রথমে নির্বাচন কমিশনে নালিশ, তারপর তৃণমূল ভবন থেকে প্রেস কনফারেন্স এবং সবশেষে স্থানীয় স্তরে পাল্টা প্রচার। মূলত কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা, সরকারি উন্নয়ন এবং প্রমাণসহ বিজেপি-র নানা পদক্ষেপকে জনসমক্ষে আনাই ছিল এই বৈঠকগুলির  মূল লক্ষ্য।

এই কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহেই কলকাতা সহ রাজ্যের প্রতিটি জেলায় তৈরি করা হয়েছিল বিশেষ মিডিয়া সেল। প্রতিদিন নির্দিষ্ট মুখপাত্র বা নেতারা সেখানে বসেন এবং বিরোধীদের তোলা যাবতীয় অভিযোগের তাৎক্ষণিক জবাব দেন। এই কাজের জন্য তৃণমূল ভবনে ৪০ জনেরও বেশি তুখোড় মুখপাত্রের একটি তালিকা তৈরি করা হয় যারা প্রতিনিয়ত তথ্য-প্রমাণ দিয়ে বিজেপি-র প্রচার রুখে দেওয়ার কাজ করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই সুসংগঠিত মিডিয়া লড়াই আসন্ন নির্বাচনে এক বড় ফ্যাক্টর হতে চলেছে।