মিল্টন সেন, হুগলি: বিএলও বাড়ি বাড়ি বুথ স্লিপ দিয়ে যাচ্ছেন। তাঁর বাড়িতে এসেছেন বুথ স্লিপ দিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে বুথ স্লিপ বুথ স্লিপ দেননি। কারণ এসআইআর এর পর ভোটার তালিকায় তাঁর নাম ডিলিট দেখাচ্ছে। তাহলে কি এবার তাঁকে ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে? দেশন্তরিত হতে হবে? ইত্যাদি আতঙ্কে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন বৃদ্ধা। গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হলেন। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির দাদপুরে। মৃতার নাম রবি মাঝি(৬৫), বাড়ি দাদপুর থানার অন্তর্গত আইমা সোমসারা গ্রামে।
এদিন ছিল প্রথম দফার ভোট। দ্বিতীয় দফার ভোট হুগলিতে ২৯ এপ্রিল। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় দফার বুথ স্লিপ বিলি করার কাজ প্রায় শেষ। বিএলও রা বাড়ি বাড়ি বুথ স্লিপ দিয়ে যাচ্ছেন ভোটারদের। বুথ স্লিপ পাননি রবি দেবী। পরিবারের দাবি, তিনি ভোট দিতে পারবেন না। চিন্তায় ছিলেন এর পর কি হবে। ডিটেনশন ক্যাম্পে যেতে হবে। দেশান্তরিত হতে হবে। নাম বাদ যাওয়ার পর থেকেই চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল। পরিণতি নিয়ে আতঙ্কে ছিলেন। এদিন গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মঘাতী হন বৃদ্ধা।
মৃতার ছেলে পল্টু মাঝি জানিয়েছেন, এদিন ভোরে তার মা বাড়ির পাশের বাঁশ বাগানে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন। তাঁর মা চরম আতঙ্কে ছিলেন। ভয় ছিল, ভোট না দিতে পারলে দেশান্তরিত হতে হবে। সেই আশঙ্কা থেকেই এই ঘটনা বলে দাবি বৃদ্ধার পরিবারের। আধার আর ভোটার কার্ডে নামের গোলমালের জন্যই এই পরিণতি জানিয়েছেন পল্টু বাবু। তিনি বলেছেন, রবি মাঝির ১৯৯৫ সালে প্রথম ভোটার কার্ড হয়। তখন সেই কার্ডে নাম ছিল গায়ত্রী মাঝি। আধার কার্ডে নাম হয়ে যায় রবি মাঝি। শেষ ভোটার তালিকাতেও দেখা যায় নাম রয়েছে রবি মাঝি। দুই কার্ডে দুরকম নাম, তাই নামের গন্ডোগোলের জেরে এসআইআর শুনানিতে ডাক পরেছিল। রবি দেবীর যুক্তি গ্রাহ্য হয়নি। এই অসঙ্গতির কারনে নাম ডিলিটেড হয়ে যায়।
পরিবারের দাবি তারা আশ্বস্ত করেছিলেন কিছু হবে না। পরে আবার নাম তোলার সুযোগ আসবে। ট্রাইব্যুনালে আবেদন করা হবে। আবার নাম উঠবে ভোটার তালিকায়। অনেক বোঝানো হয়েছে তবুও মানসিক অবসাদ কমেনি। ডিটেনশন ক্যাম্পে যাওয়া, দেশান্তরিত হওয়া ইত্যাদি আতঙ্কে ছিলেন তাঁর বৃদ্ধা মা। মৃতার বৌমা রুনু মাঝি বলেছেন, ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেবে বলছিল। গতকাল বিএলও বুথ স্লিপ দিয়ে যায়। তাতে শ্বাশুড়ির স্লিপ ছিল না। সেটা দেখেই বিলাপ করতে থাকে।নাম কেটে দিয়েছে এবার দেশ থেকে তাড়িয়ে দেবে।
















