আজকাল ওয়েবডেস্ক: নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে শ্লীলতাহানিতে অভিযুক্ত পুলিশই এবার থানার ওসি! ৪৭ থানায় বড়সড় রদবদলের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের আগে বড় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক পুলিশ আধিকারিককেই এবার থানার ওসি করল নির্বাচন কমিশন। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর বিতর্ক।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে কলকাতা-সহ রাজ্যের মোট ৪৭টি থানার ওসি বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২৯টি থানায় অন্যান্য আধিকারিকদেরও রদবদল করা হয়েছে।
শ্লীলতাহানির অভিযুক্তই নতুন ওসি:
অভিযুক্ত পুলিশ আধিকারিক অনিমেষ দাস-কে আসানসোল দক্ষিণ থানার ওসি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক মহিলা কনস্টেবলকে প্রকাশ্য রাস্তায় শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই সময় তিনি কৃষ্ণনগর জেলা পুলিশের ডিআইবি বিভাগে কর্মরত ছিলেন।
দুপুরবেলা প্রকাশ্য রাস্তায় শ্লীলতাহানি, বেআইনিভাবে আটক, মারধর, ভয় দেখানো, এই সব অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়। ঘটনার খবর পেয়ে চাকদহ থানার পুলিশ তাঁকে আটক করে। পরে গ্রেপ্তার করা হয় অনিমেষ দাসকে। এমনকী কয়েকদিন জেলও খাটতে হয় তাঁকে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এর আগেও ২১ জানুয়ারি নবদ্বীপ থানায় একই ধরনের অভিযোগ করেছিলেন ওই মহিলা কনস্টেবল। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে সাসপেন্ড করে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হয়। এই পরিস্থিতিতে তাঁকে আবার নির্বাচনের সময় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন মহলে।
কলকাতা পুলিশেরও বড় রদবদল:
এদিকে কলকাতা পুলিশের গুন্ডা দমন শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার দেবজিৎ চট্টোপাধ্যায়-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় দায়িত্ব পেয়েছেন সলিলকুমার রায়।
অমিত শাহের মিছিলের ঘটনার পর বদলি:
অমিত শাহ-র মিছিলে অশান্তির ঘটনার পর আলিপুর থানার ওসিকে আগেই সাসপেন্ড করেছিল নির্বাচন কমিশন। এবার ওই থানার নতুন ওসি করা হয়েছে তপন নাথ-কে। তিনি আগে রিজার্ভ ফোর্সে কর্মরত ছিলেন।
অন্যদিকে আলিপুর থানার অতিরিক্ত ওসি চামেলি মুখোপাধ্যায়, আগে ছিলেন উল্টোডাঙা মহিলা থানার ওসি।
নির্বাচন ঘিরে কড়া নজর কমিশনের:
নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্বাচন কমিশন একের পর এক প্রশাসনিক বদল করছে।
তবে শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত আধিকারিককে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় রাজনৈতিক মহল ও প্রশাসনিক স্তরে বিতর্ক আরও বাড়ছে।















