আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজনীতিতে চিরশত্রু বলে কিছু হয় না—এই আপ্তবাক্যটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে সিপিএমের কাছে। একসময়ের ভাঙড়ের ‘তাজা নেতা’ তথা বামেদের প্রধান রাজনৈতিক শত্রু আরাবুল ইসলাম এখন আইএসএফ-এর হাত ধরে জোটের সঙ্গী। আর এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ক্যানিং পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে নজিরবিহীন ডামাডোল। যে নেতার ‘সন্ত্রাস’-এর বিরুদ্ধে গত দু-দশক লড়াই করেছে বামেরা, আজ তাঁকেই ভোট দেওয়ার আবেদন জানানো কি আদৌ সম্ভব? এই প্রশ্নেই উত্তাল আলিমুদ্দিন থেকে ক্যানিংয়ের অলিগলি।
সোমবার ক্যানিং পূর্ব আসন থেকে আইএসএফ প্রার্থী হিসেবে আরাবুল ইসলামের নাম ঘোষণা হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন স্থানীয় সিপিএম কর্মীরা। সূত্রের খবর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা কমিটির ওপর নিচুতলার কর্মীদের প্রবল চাপ রয়েছে যাতে কোনওভাবেই আরাবুলকে সমর্থন না করা হয়। কর্মীদের স্পষ্ট দাবি, "যাঁর অত্যাচারে একসময় ঘরছাড়া হতে হয়েছিল, আজ তাঁকে ভোট দেওয়া মানে শহিদ কর্মীদের অপমান করা।" এমনকি ও শোনা যাচ্ছে যে, জেলা নেতৃত্বের তরফে আলিমুদ্দিনে বার্তা পাঠানো হয়েছে যে, ওই আসনে আইএসএফ প্রার্থীকে বয়কট করে সিপিএমের নিজস্ব প্রার্থী ঘোষণা করা হোক।
শোনা যাচ্ছে আইএসএফ-এর এই ‘একতরফা’ প্রার্থী ঘোষণা নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ বামফ্রন্ট নেতৃত্ব। বিশেষ করে ভাঙড় ও ক্যানিংয়ের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় আরাবুলের মতো বিতর্কিত মুখকে মেনে নেওয়া কার্যত ‘ধর্মসংকট’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই আবহে বৃহস্পতিবার একটি জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকেছেন সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, আসন রফা এবং আরাবুল ইস্যুতে বড় কোনও কড়া সিদ্ধান্ত নিতে পারেন তিনি। সেলিম আগেই জানিয়েছিলেন, "একতরফাভাবে কিছু হয় না, যেখানে শরিকদের দাবি আছে সেখানে আলোচনা প্রয়োজন।"
আরাবুল ইস্যুতে সিপিএম সমর্থকরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ অবিলম্বে জোট প্রত্যাহারের দাবি তুলছেন, অন্য পক্ষ আবার বাস্তব রাজনীতির দোহাই দিচ্ছেন। তবে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা সিপিএমের একাংশ আবার এই বিতর্ককে বিশেষ আমল দিতে নারাজ। তাঁদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কী হচ্ছে সেটা ব্যক্তিগত বিষয়, পার্টির অভ্যন্তরে এ নিয়ে কোনও মাথাব্যথা নেই।
জেলা সিপিএমের এক নেতার কথায়, "ওদের ছাগল ওরা আগায় কাটবে না মাথায় কাটবে সেটা ওদের ব্যাপার (আইএসএফ-এর সিদ্ধান্ত)।" তিনি আরও যোগ করেন, "ভাঙড়, ক্যানিং ও বাসন্তী অঞ্চলে তৃণমূল যে পরিমাণ সন্ত্রাস চালিয়েছে, মানুষ তা থেকে মুক্তি চাইছে। আইএসএফ তৈরি হওয়ার পর কিছুটা প্রতিরোধ গড়া গেছে ঠিকই, কিন্তু শওকত মোল্লা যে রাজপ্রাসাদে থাকছেন, মানুষ তার জবাব দেবেই। হারের ভয়েই শওকত মোল্লা এসব ভুয়ো খবর রটাচ্ছে।"
সব মিলিয়ে, ক্যানিং পূর্বে আরাবুল ইসলামের প্রার্থীপদ কেবল জোটের ভবিষ্যৎ নয়, বরং বামেদের নৈতিকতাকেও এক কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে। এখন দেখার, বৃহস্পতিবার মহম্মদ সেলিম এই জট কাটাতে কী ‘প্রেসক্রিপশন’ দেন।















