আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য রাজনীতির উত্তপ্ত আবহের মধ্যেই সৌজন্যের এক বিরল ছবি দেখা গেল কলকাতার লোকভবনে। শনিবার বিকেলে নবনিযুক্ত রাজ্যপাল আর এন রবি-র আমন্ত্রণে তাঁর সঙ্গে দেখা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১২ মার্চ দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই ছিল তাঁদের প্রথম আনুষ্ঠানিক সাক্ষাৎ। বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যপালের আমন্ত্রণে কেবল চা-চক্র ও সৌজন্য বিনিময়ের উদ্দেশ্যেই তিনি এসেছিলেন।

https://www.youtube.com/shorts/NWzJGSyWKMw

তবে এই সৌজন্যের আড়ালে রাজনীতির সমীকরণ নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে। প্রাক্তন রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস-এর আকস্মিক পদত্যাগ নিয়ে ইতিপূর্বেই প্রশ্ন তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন তাঁকে সরতে হলো, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে ক্ষোভ ছিল স্পষ্ট। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন রাজ্যপালের সঙ্গে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সামনেই কড়া নাড়ছে বিধানসভা নির্বাচন। নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল—দুই দফায় রাজ্যের মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনের ফলাফল জানা যাবে ৪ মে। ভোটের ডামাডোল শুরু হওয়ার ঠিক আগে প্রশাসনিক ও সাংবিধানিক প্রধানের এই সাক্ষাৎ রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা পালন করতে পারে।

সাক্ষাৎ শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই সফরের পিছনে কোনো রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক 'অ্যাজেন্ডা' নেই। তিনি স্পষ্ট করেন, "রাজ্যপাল চা-চক্রের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, তাই নিতান্তই সৌজন্য বিনিময় করতে এসেছি। এর মধ্যে বিশেষ কোনো গূঢ় কারণ নেই।"

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। প্রাক্তন রাজ্যপালের পদত্যাগ এবং নিয়োগ নিয়ে যে বাদানুবাদ চলছিল, ইদের আবহে সেই মেঘ কাটিয়ে নবান্ন ও রাজভবনের সম্পর্ককে একটি মসৃণ ও ইতিবাচক খাতে বইয়ে দিতে দুই পক্ষই আগ্রহী। এদিনের এই 'চা-চক্র' আদতে রাজ্যের দুই সাংবিধানিক প্রধানের মধ্যেকার বরফ গলানোর প্রথম ধাপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।