আজকাল ওয়েবডেস্ক: বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী বিভাস সর্দারের মনোনয়ন জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সোমবার বারুইপুর মহকুমা শাসকের দপ্তরের সামনে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। 

মনোনয়ন জমা দিতে আসার সময় প্রার্থীকে ঘিরে থাকা তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে পুলিশের বচসা শুরু হয়, যা ক্রমশ ধস্তাধস্তি ও ঠেলাঠেলির আকার নেয়। ফলে কিছু সময়ের জন্য এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

সূত্রের খবর, এদিন সকালে থেকেই বারুইপুর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকরা মিছিল করে বারুইপুর এসডিও অফিসের সামনে জড়ো হতে থাকেন। প্রার্থী বিভাস সর্দারের সমর্থনে এই মিছিল ক্রমশ বড় আকার নেয়। মিছিলে যোগদানকারীদের হাতে দলীয় পতাকা, ব্যানার এবং স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিনকে কেন্দ্র করে কর্মীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা। 

তবে এত সংখ্যক মানুষের জমায়েত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ মোতায়েন ছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই নির্দিষ্ট সংখ্যক মানুষকে এসডিও অফিস চত্বরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ, সেই নির্দিষ্ট সীমা অতিক্রম করে অনেক বেশি সংখ্যক কর্মী একসঙ্গে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। আর সেখান থেকেই শুরু হয় উত্তেজনা। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। পরে তা দ্রুতই ধাক্কাধাক্কি এবং ধস্তাধস্তিতে পরিণত হয়। তৃণমূল কর্মীদের একাংশ পুলিশের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় ঠেলাঠেলি, যার জেরে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। যদিও বড় ধরনের কোনও আহতের খবর মেলেনি, তবে ঘটনাস্থলে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

পরিস্থিতি সামাল দিতে সঙ্গে সঙ্গে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় বাহিনীও ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করে। এসডিও অফিস চত্বর এবং তার আশপাশের এলাকা কার্যত পুলিশি নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়। জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যারিকেড বসানো হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলেও কিছুটা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।

এই ঘটনার পর এলাকায় রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, পুলিশ অযথা তাঁদের কর্মীদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে পুলিশের দাবি, তারা শুধুমাত্র পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে। 

প্রার্থী বিভাস সর্দার মনোঊ জমা দেওয়ার পর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় জানান, তিনি শান্তিপূর্ণভাবে মনোনয়ন জমা দিতে এসেছিলেন। কিন্তু অপ্রয়োজনীয় বাধার কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি তিনি তাঁর সমর্থকদের সংযত থাকার আহ্বান জানান। 

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এলাকায় এখনও উত্তেজনার আবহ রয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পুরো ঘটনার উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে, তার জন্যও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গেছে। 

মনোনয়ন জমা করাকে কেন্দ্র করে এই ধরনের উত্তেজনা নতুন নয়, তবে বারুইপুরের এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে দিল যে নির্বাচনের আবহে রাজনৈতিক উত্তাপ কতটা দ্রুত বাড়তে পারে। এখন দেখার, আগামী দিনে পরিস্থিতি কতটা স্বাভাবিক হয় এবং প্রশাসন কতটা দক্ষতার সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে।