মিল্টন সেন, হুগলি, ১৮ মার্চ: ‘বিরোধী শূন্য বিধানসভা। বিরোধী দল বলতে কিছুই নেই। তিনি নিজেই তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী।’ যাঁরা দলের খেলোয়ার, তাঁদের ভোকাল টনিক দিলেন। বুধবার এক কর্মী বৈঠকে যাঁরা তৃণমূলকে ভোট দেয় না, দলীয় কর্মীদের তাদের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করার পরামর্শ দিলেন চন্দননগর বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী ইন্দ্রনীল সেন।
মঙ্গলবার ঘোষণা হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থী তালিকা। তৃতীয়বারের জন্য তৃণমূলের প্রার্থী হলেন ইন্দ্রনীল সেন। ২০১৬ সালে প্রথম চন্দননগর বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হন সঙ্গীত শিল্পী ইন্দ্রনীল সেন। জয়লাভ করে বিধায়ক হন। জায়গা করে নেন রাজ্যের মন্ত্রিসভায়। ২০২১ সালেও চন্দননগর থেকেই প্রার্থী হয়ে জয়লাভ করেন ইন্দ্রনীল। এবারেও বিধানসভা ভোটে চন্দননগর বিধানসভায় ইন্দ্রনীলের উপরেই ভরসা রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। প্রার্থী ঘোষণার পর বুধবার চন্দননগরে কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন ইন্দ্রনীল সেন। চন্দননগর–কলুপুকুরধাড় এলাকায় একটি লজে প্রথমে কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করেন। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেন তৃণমূল প্রার্থী। ইন্দ্রনীল সেন বলেন, ‘চন্দননগরে একাধিক উন্নয়ন হয়েছে। তবু যদি কেউ মনে করেন আরও কিছু কাজ হওয়ার দরকার ছিল, সেই কাজগুলি হয়নি। তবে সেই কাজের লিস্ট আপনারা পাঠাবেন। করে দেব। আগামী দিনে আর কি কি কাজ হবে তা সবাইকে নোটিশ দিয়ে এবং সাংবাদিক বৈঠকের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হবে।’
চন্দননগরের সিপিএম প্রার্থী এলাকার স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দশা বেহাল বলে দাবি করেছেন। সেই প্রসঙ্গে ইন্দ্রনীল বলেন, ‘ওঁনার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। চোখের পরীক্ষাও দরকার। তাঁর জন্য সরকারি হাসপাতাল রয়েছে। স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প রয়েছে। স্বাস্থ্যবিমা রয়েছে। তার পরেও যদি আমার কোনও ব্যক্তিগত সাহায্য দরকার হয়, আমি করব। অনেক কাজ হয়েছে। আবার কিছু কাজ হয়তো বাকি আছে। কেন্দ্র সরকার অনেক টাকা আটকে রেখেছে। কেন্দ্র সরকারকে বলব রাজ্যের বকেয়া টাকা ছাড়ুন। তাহলে বিধানসভা এলাকায় আরও উন্নয়ন করতে পারি।’
মমতা ব্যানার্জিই যে চতুর্থবারের জন্য মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন তা জানিয়ে দিয়েছেন ইন্দ্রনীল। বুধবারের কর্মী বৈঠকে ভোকাল টনিক দেন ইন্দ্রনীল। বলেন, ‘সবাইকে বলব শরীর সুস্থ রাখুন। এলাকায় সকলের বাড়ি বাড়ি যান। সম্পর্ক সবার সঙ্গে ভাল রাখুন। ভোটাররা যাতে ভোট দিতে পারে সেদিকে নজর দিন। ভোট মানুষ যাকেই দিক না কেন তিনি যেন নিজে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে সেদিকে নজর দিন। আমাদের ভোট না দিলেও তারা যাতে ভোট দিতে পারে তাদের সব রকম সহযোগিতা করো।’
ছবি: পার্থ রাহা
