আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা হতেই নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হলেন বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষ। পাশাপাশি পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে সাসপেন্ডের দাবি তুলেছেন তিনি।
এদিন সন্ধ্যায় সমাজমাধ্যমে কুণাল ঘোষের বক্তব্য, "একুশে মে গোটা ফলতা বিধানসভায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করেছে জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচন কমিশন। প্রশ্ন এক, আপনাদের বজ্র আঁটুনি কি ফসকা গেরো? গোটা ফলতা জুড়ে রিগিং হল, আর আপনারা দিনের দিন ধরতে পারলেন না? গন্ডারের গায়ে সুড়সুড়ি দিলে তিনদিন পর হাসে। এত রিগিং হল, যে ডে অফ ইলেকশন ধরতে পারলেন না?"
এমনকী পুলিশ পর্যবেক্ষক অজয় পাল শর্মাকে সাসপেন্ডের দাবিও তুলেছেন তিনি। এরপরই কুণাল আরও বলেন, "প্রশ্ন দুই, আপনাদের মুজরো সিংঘম, তাঁর এত ডায়লগ, তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন আর এত রিগিং হল! ওকে আগে সাসপেন্ড করুন। ও কেন পার পেয়ে যাবে? প্রশ্ন তিন, এত কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, সেনা, আধা সেনা ছিল, তারা গোটা ফলতা জুড়ে রিগিং ধরতে পারল না? ফলে নির্বাচন কমিশন যেটা করেছে, সেটা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং যখন যে সময় এই পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ততক্ষণে ২৩০-এর বেশি আসন নিয়ে মমতা ব্যানার্জি সরকার গঠন করে ফেলেছেন এবং ফলতাতেও আবার তৃণমূলের প্রার্থী জিতবে। আপনাদের শুধু শুধু পণ্ডশ্রম হবে।"
প্রসঙ্গত, দ্বিতীয় দফার ভোটের দিন থেকে শনিবার পর্যন্ত, দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ফলতা। এবার ফলতার সব বুথেই পুনর্নির্বাচনের ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।
শনিবার রাতে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আগামী ২১ মে অর্থাৎ ফলপ্রকাশের তিন সপ্তাহ পর গোটা ফলতা বিধানসভায় ফের ভোটগ্রহণ হবে। আগামী ৪ মে রাজ্যের ২৯৩ আসনের ভোটগণনা ও ফলপ্রকাশ হবে। স্থগিত থাকবে শুধুমাত্র ফলতার ফলাফল।
কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের ২৮৫টি বুথেই ফের ভোটগ্রহণ হবে। এই কেন্দ্রের ভোটের গণনা হবে ২৪ মে।
ভোটের ফলাফল ঘোষণার দু'দিন আগে অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে ফলতা। ভোট দিতে না পারার অভিযোগ তুলে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন বিজেপি সমর্থকরা। ফলতার হাসিমনগরে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তিন তৃণমূল কর্মী গ্রেপ্তার হয়েছে। ধৃতেরা হলেন, আতিবুর শেখ, হাবিব মোল্লা, হাবিব শেখ। পুলিশ জানিয়েছে, পঞ্চায়েত প্রধান ইসরাফিল চাকদার ও তাঁর সঙ্গী সুজাউদ্দিন শেখের বিরুদ্ধেও মামলা রুজু করা হয়েছে।
ভোটের পর থেকেই রাজনৈতিক সংঘাত, হামলা এবং পুনর্নির্বাচনের দাবিকে কেন্দ্র করে কার্যত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে এই বিধানসভার হাসিমনগর এলাকা।















