আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভোটের ফলাফল ঘোষণার দু'দিন আগে উত্তপ্ত বিধাননগর এলাকা। শনিবার গভীর রাতে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে বচসায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি।
বিধাননগর কলেজের তিনটি বিধানসভার স্ট্রংরুম রয়েছে। বিধাননগর কলেজের স্ট্রংরুমের বাইরে ক্যাম্প অফিসের টেন্ট বসানো ঘিরে শনিবার গভীর রাতে তৃণমূল ও বিজেপি সমর্থকদের মধ্যে বচসা শুরু হয়। তৃণমূল কংগ্রেস বিজেপির টেন্ট বসানোয় বাধা দেয় বলে অভিযোগ ওঠে।
এরপর তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয়। স্লোগান, পাল্টা স্লোগান দেন দুই দলের কর্মী সমর্থকরা। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাঠিচার্জ করে। আরও তৃণমূল কর্মী, সমর্থকরা বিধাননগর কলেজের সামনে ভিড় জমিয়েছেন।
সেখানে উপস্থিত আছেন বিধাননগরের তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সুজিত বসু ও বিজেপি প্রার্থী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়, রাজারহাট-নিউটাউনের তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তাপস চ্যাটার্জি, বিজেপি প্রার্থী পীযূষ কানোরিয়া সহ অন্যান্য প্রার্থীরাও। পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে কোনও রাজনৈতিক দল যাতে জমায়েত না করে।
গতকাল, শুক্রবার গভীর রাতে আরও এক স্ট্রংরুমের ছাদে রহস্যময় ব্যক্তিকে দেখা গেছে। যে ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শাসক–বিরোধী সবাই একযোগে আক্রমণ শানিয়েছে প্রশাসনকে। বর্ধমানের ইউআইটি বিল্ডিংয়ের স্ট্রংরুমে সিসিটিভি বিকল ও সময়ের অমিল ঘিরে বিতর্কের পাশাপাশি নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস।
ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হতেই পূর্ব বর্ধমানের ইউআইটি ক্যাম্পাসে তৈরি স্ট্রংরুমকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর। ইভিএমের নিরাপত্তা, সিসিটিভির কার্যকারিতা এবং গভীর রাতের সন্দেহজনক গতিবিধি নিয়ে একাধিক অভিযোগে সরগরম কমবেশি সব দলই।
বর্ধমান উত্তর বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সঞ্জয় দাস অভিযোগ করেছেন, স্ট্রংরুমে ইভিএম রাখার পর থেকেই একাধিক অসঙ্গতি চোখে পড়ছে। তাঁর দাবি, রাতের দিকে মাঝেমধ্যেই সিসিটিভির ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয়, গভীর রাতে ভবনের ছাদে কিছু লোকের ওঠানামা এবং হাতুড়ির শব্দ শোনা গিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এর ফলে ইভিএমের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ তৈরি হয়েছে বলে জানান সঞ্জয় দাস। ইতিমধ্যেই তিনি ভিডিও–সহ পুরো বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে এনেছেন।
অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি স্বরাজ ঘোষও নজরদারি ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, সিসিটিভি মনিটরিং চলাকালীন বারবার ক্যামেরা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে এবং রেকর্ডিংয়ের সময় ভারতীয় সময়ের থেকে ১–২ মিনিট এগিয়ে থাকছে। ফলে কোনও বড় ঘটনা ঘটলে তার সঠিক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।















