আজকাল ওয়েবডেস্ক: বহরমপুরের বিভিন্ন বুথে অত্যন্ত ধীরগতিতে ভোট নেওয়ার কাজ চলছে বলে অভিযোগ তুললেন প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি তথা ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বহরমপুর কেন্দ্রে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর রঞ্জন চৌধুরী। এর পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে বিজেপি এবং তৃণমূল কংগ্রেস যৌথভাবে ষড়যন্ত্র করে ভোট কাটাকাটি করার চেষ্টা করছে বলেও অধীর অভিযোগ করেছেন। যদিও অধীরের দাবি, নির্বাচন কমিশন ভোট পরিচালনার জন্য যে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে তাতে এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুরে বা রাজ্যে বড় কোনও ঘটনা ঘটেনি।
বহরমপুর বিধানসভার অন্তর্গত ১৪১ নম্বর বুথে অত্যন্ত ধীরগতিতে ভোট নেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ পেয়ে বৃহস্পতিবার অধীর সটান সেখানে হাজির হয়ে যান। বুথ থেকে বার হয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “সকাল থেকে এই বুথে মোট চার বার ইভিএম মেশিন খারাপ হয়েছে। ওই বুথের প্রিসাইডিং অফিসার নিজের অসহায়তার কথা আমাকে জানিয়েছেন। গোটা বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের নজরে আনার পর তাদের ইঞ্জিনিয়ার এবং আধিকারিকেরা আসছেন। তবে মেশিন পাল্টে দিলেও আবার তা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। এর ফলে ওই বুথে অত্যন্ত ধীরগতিতে ভোট নেওয়া হচ্ছে। মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে।”
অধীর বলেন, “বারবার ইভিএম খারাপ হওয়ার বিষয়টি ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদের জেলা শাসক এবং রাজ্যের সিইও-র নজরে আনা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “ধীর গতিতে ভোট হওয়ার ফলে কিছুটা হলেও আমার অসুবিধা হতে পারে। এখানকার ভোটারদের মধ্যে 'প্রতিষ্ঠান বিরোধী' মানসিকতা কাজ করছে। তাঁরা যদি ভোট দিতে না পারেন তাহলে কিছুটা সমস্যা হতে পারে।” তবে বহরমপুরে নির্বাচন দুপুর পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ এবং কোনও ঘটনা ছাড়াই হচ্ছে বলে অধীর চৌধুরী জানিয়েছেন।
নির্বাচন প্রক্রিয়া দেখতে বার হওয়ার আগে অধীর সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, “বহরমপুর কেন্দ্রে তৃণমূল কংগ্রেস এবং বিজেপি আমার বিরুদ্ধে যৌথভাবে চক্রান্ত করছে। নির্বাচনী প্রচারে এখানে তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে কোনও কথা বলেনি। উল্টে এই কেন্দ্রে বিজেপি চাইছে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট যাতে বেশি করে তৃণমূল কংগ্রেস পায় এবং আমাকে যাতে হারানো যায়।"
অন্যদিকে, নির্বাচন পরিচালনাকে কেন্দ্র করে কমিশনের ভূমিকারও আজ প্রশংসা করেন অধীরর। তিনি বলেন, “এসআইআর পর্বে নির্বাচন কমিশনের বহু ভূমিকার আমি সমালোচনা করেছি। কিন্তু আজ নির্বাচনের দিন কমিশনের বিরুদ্ধে বড় কিছু বলার মত অভিযোগ আমি পাইনি। অযথা আমি তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলতে চাই না।"
অধীরবাবু আরও বলেন, “কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর জওয়ানরা বুথের মধ্যে পর্যাপ্ত সংখ্যায় থাকায় তৃণমূল দলের গুন্ডারা বুথের কাছাকাছি যেতে পারছে না। তারা হয়তো দূর থেকে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে।”
















