আজকাল ওয়েবডেস্ক: দীর্ঘ পাঁচ বছর বিধায়কের দেখা না পেয়ে বহরমপুরের বিজেপি বিধায়ক সুব্রত মৈত্রের বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দিলেন সাধারণ মানুষ। ভোটের মরশুমে বিধায়কের বিরুদ্ধে  অভিযোগ উঠল এলাকার উন্নয়ন না করে 'রাজনীতি করেছেন এবং ঘুরে বেড়িয়েছেন'।

শুক্রবার নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে বহরমপুর পুরসভার তিন, চার ও আট নম্বর ওয়ার্ডের পাউন্ড রোড, লিচুবাগান এলাকায় যান বিজেপি প্রার্থী। সেখানেই তাঁর বিরুদ্ধে একরাশ ক্ষোভ উগড়ে দেন বেশ কিছু মানুষ।

এমনই এক যুবকের ক্ষোভের ভিডিও (যার সত্যতা আজকাল ডট ইন যাচাই করেনি) সমাজ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকা জুড়ে।

ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে  ওই যুবক নিজের অভিযোগ জানিয়ে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্রকে বলছেন , "আমরা মন থেকে আপনাকে চেয়েছিলাম, কিন্তু খুব দুঃখ পেয়েছি আপনি না আসায়। আপনি কোনও কাজ নাই করতে পারতেন, কিন্তু আমাদের সঙ্গে একবার দেখা করে আমাদের কুশল সংবাদ নিতেন, তাতেও ভাল লাগত।"

হটাৎ করে ক্ষোভের মুখে পড়ে বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র অবশ্য নিজের মেজাজ না হারিয়ে শান্তভাবে যুবকের কথা শোনেন এবং মৃদু স্বরে 'আচ্ছা' বলে এলাকা ছেড়ে চলে যান। তবে এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হতেই বহরমপুর শহর জুড়ে বিধায়কের গত পাঁচ বছরের কাজ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, এই বিক্ষোভ সমস্তটাই পূর্ব পরিকল্পিত। বিধায়ককে ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্য সরকার কাজ করতে দেয়নি এবং এখন ভোট প্রচারে বেরিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ঘিরে মানুষের ক্ষোভের কথা তুলে ধরা হচ্ছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের বক্তব্য, বিধায়ক গত পাঁচ বছরে বহরমপুরের সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি এবং নিজের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকাও সম্পূর্ণ খরচ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বহরমপুরের রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গত একুশের নির্বাচনে কংগ্রেসের গড় হিসেবে পরিচিত বহরমপুর বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী মনোজ চক্রবর্তীকে হারিয়ে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্র। এবছরও হাইপ্রোফাইল বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পদ্ম ফুল ফোটাতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বিধায়ক সুব্রত মৈত্র। 

ইতিমধ্যেই জোরকদমে শুরু হয়ে গেছে তাঁর নির্বাচনী প্রচার। সেই নির্বাচনী প্রচারের অংশ হিসেবে মানুষের সঙ্গে জনসংযোগ সারতে শুক্রবার বহরমপুরের রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। 

কিন্তু ভোট প্রচারের ময়দানে ঘটে যায় এই বিপত্তি । এলাকাবাসীর ভালোবাসা পাওয়ার পরিবর্তে তাঁদের অভিযোগের সম্মুখীন হতে হয় তাঁকে। তবে শুধু এলাকাবাসী নয়, নির্বাচনী প্রচারে বিরোধীদলগুলো তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন ,দীর্ঘ পাঁচ বছর এলাকার মানুষ বিধায়ককে কাছে পায়নি ।

এলাকা উন্নয়নের কোনও কাজই তিনি করেননি বলেও অভিযোগ তুলেছেন বহরমপুরের বেশ কিছু  ভোটার। এখনও অসম্পূর্ণ থেকে গিয়েছে পঞ্চাননতলা রেল ওভারব্রিজের কাজ ।

তাছাড়া বহরমপুরের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে কোনও ধরনের প্রকল্পের টাকা তিনি মঞ্জুর করে আনতে পারেননি বলেও অভিযোগ তুলেছে বিরোধী দলগুলো। তবে সুব্রত মৈত্রের বিরুদ্ধে এই ক্ষোভের ঘটনা তাঁর ভোটের ফলাফলে কতটা  প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার।