আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের দপ্তরে ঢোকার আগেই বিস্ফোরক টুইট করেছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। ফর্ম ৬ নিয়ে নানা অভিযোগ তুলেছিলেন টুইটে। নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে বৈঠক সেরে অভিষেক বললেন, কমিশনারের অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করতে বলেছি। কিন্তু তিনি বলছেন সিসিটিভিই নেই। বাংলার ৮০ হাজার বুথে ওয়েবকাস্টিং করবেন, সিসিটিভি লাগাবেন, এদিকে তাঁর অফিসেই সিসিটিভি নেই। তাঁর অভিযোগ, ফর্ম-৬ ভর্তি বস্তা নিয়ে সোমবার কমিশনে ঢুকেছিলেন বিজেপির লোকজন। বিহার, উত্তরপ্রদেশের ভোটারদের পশ্চিমবঙ্গের ভোটার তালিকায় ঢোকানোই উদ্দেশ্য।
সোমবার সন্ধ্যায় অভিষেক-সহ তৃণমূলের প্রতিনিধদল সিইও দপ্তরে যায়। বেশ খানিকক্ষণ বৈঠক হয় সেখানে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অভিষেক বলেন,“কমিশন বলছে ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। তাহলে কমপক্ষে ৬০০ জনকে উপস্থিত হতে হয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে বলেছি। আমরা যে দাবি জানিয়েছি, তার কোনও সদুত্তর ছিল না।”
অভিষেক আরও বলেন, “বাংলার ডেমোগ্রাফি পাল্টে দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন এবং অমিত শাহ। ছ’মাস ধরে কাজ চলছে এসআইআরের। কতজন বাংলাদেশী বা রোহিঙ্গা ধরা পড়ল। এর কোনও উত্তর নেই জ্ঞানেশ কুমার বা অমিত শাহের কাছে।”
অভিষেকের দাবি, বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের নির্দেশে বেআইনি ভাবে রাজ্যের ভোটার তালিকায় নাম ঢোকানো হচ্ছে। তাঁর দাবি, অমিত মালব্য সিইও-কে ফোন করে চাপ দিয়ে জোরজবরদস্তি ফর্ম-৬ জমা করিয়েছেন। বিহার, উত্তরপ্রদেশের হাজার হাজার ভোটারের নাম তোলা হচ্ছে। বাংলার ডেমোগ্রাফি পাল্টে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “১৫ তারিখ নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত দু’সপ্তাহ হয়েছে। বাংলার ৩৯৫ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। বাংলাকে যেভাবে আলাদা করে প্রতিনিয়ত হেনস্থা করা হচ্ছে। বাংলাকে যদি বাংলাদেশ হিসাবে কেউ দেখে থাকে, সেটা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার।’’
অভিষেক বলেন, “বাংলাকে উত্তরপ্রদে, বিহার বানাতে চায় বিজেপি। তারা যে বলছে পরিবর্তন দরকার, তারা এই ডেমোগ্রাফি পরিবর্তন চায়। যেখানে দুর্গাপুজো নয় রামনবমী হবে। যেখানে ধর্ম অস্ত্র নিয়ে হবে। রাজনীতি ধর্ম নিয়ে হবে, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থান নিয়ে নয়। বিজেপি এই পরিবর্তন চায়। বিজেপি এই পরিবর্তন চায়, যেখানে সুপ্রিম কোর্টকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে সিইও অফিস এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে নিজেদেক ক্রীতদাস বানিয়ে বাংলার ডেমোগ্রাফি বদলাতে চায়।”
তিনি আরও যোগ করেন, “এরা যদি বাংলায় পরিবর্তন চাইতো তবে বাংলাকে ভাতে মারত না। বাংলার দু’লক্ষ কোটি টাকা আটকে রাখত না। যদি এরা ১০ পয়সার প্রমাণ দিতে পারে যে, পাঁচ বছরে বাড়ি, আবাস যোজনা, ১০০ দিনের টাকা নিয়েছে, তৃণমূল ২৯১টি প্রার্থীর নাম প্রত্যাহার করে নেবে। এরা বাংলার মানুষের জীবনের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন চায় না।”
অভিষেক বলেন, “আমরা আমাদের দাবি জানিয়েছি। তার মধ্যে একটি সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করুন। কমিশন বলেছে ১০ হাজার ফর্ম জমা পড়েছে। তাই যদি সত্যি হয় তাহলে ২০০ লোককে আসতে হবে। তাহলে তাদের ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। যাদের নাম জমা পড়েছে তাদের কারও নাম বাংলায় নেই। সবার দেখবেন বিহারে রয়েছে। চ্যালেঞ্জ করছি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী, ফর্ম-৬ জমা দিতে হলে ডিইও অফিসে যেতে হয়, সিইও অফিসে নয়। ডিইও অফিলে যাঁরা রয়েছেন তাঁদের নিয়োগ করেছে কমিশন, বাংলার সরকার নয়। আমি প্রশ্ন করতেই মনোজ বাবু বলছেন ডিইওদের কাছে তথ্য নেই। আমি বলছি সিসিটিভি ফুটেজ রিলিজ করুন। কিন্তু মনোজবাবু বলছেন, তিনি জানেন না তাঁর অফিসে কোথায় সিসিটিভি রয়েছে। তিনি সারা বাংলার ৮০ হাজার বুথে সিসিটিভি লাগাতে চান, ওয়েবকাস্টিং করাতে চান। কিন্তু তাঁর দপ্তরে সিসিটিভি কোথায় আছে সেটাই জানেন না। কী হাস্যকর। যদি আমার লোকানোর কিছু না থাকে তাহলে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনব। যদি তা না করেন তাহলে ধরতে হবে ডাল মে কুছ কালা হ্যাঁয়। তাঁর মানে আমার অভিযোগগুলি সত্যি। আমায় ভুল প্রমাণ করুন। আমি টুইটে সব কিছু দেখিয়েছি।”
প্রসঙ্গত, সোমবার সিইও অফিসে ঢোকার আগে অভিষেক টুইট করেন একটি। টুইটে তিনি দাবি করেন, বস্তাবস্তা ভর্তি ফর্ম-৬ জমা করে রাখা হয়েছে সিইও দপ্তরে। টুইটে তিনি লিখেছেন,“আমরা যা দেখছি, তা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করার একটি সমন্বিত প্রচেষ্টা, যা বেড়েই চলেছে, তার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।” ঘটনায় তৃণমূল সাংসদের নিশানায় বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন (ইসিআই)। অভিযোগ, সব জেনে বুঝেও, কার্যত না বোঝার ভান করছে তারা। তিনি লিখেছেন, “মানুষের এটা জানার অধিকার আছে যে তাদের ভোটের কী হচ্ছে। এটি কোনো ছোটখাটো বিষয় নয় - এটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মূল ভিত্তিকেই নাড়া দেয়।”














