আজকাল ওয়েবডেস্ক: ফের ফর্ম-৬ জমা নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপিকে এক হাত নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচক আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালের সঙ্গে দেখা করে ফর্ম-৬ জমা করা নিয়ে নানা অভিযোগ জানিয়েছিলেন অভিষেক। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে, দলীয় কর্মীদের তিনি নির্দেশ দিয়েছিলেন কমিশনের বাইরে পাহারা দিতে। কেই বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ নিয়ে আসলেই তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে। সেরকমই একজন মঙ্গলবার ধরা পড়ে যান তৃণমূল কর্মীদের হাতে। তৃণমূলের দাবি, ওই ব্যক্তি প্রথমে জানান তিনি মেদিনীপুরের বিএলএ কর্মী। কিন্তু পরে স্বীকারোক্তিতে জানা যায় তিনি ভবানীপুরের বিজেপি কর্মী। এর পরেই কমিশনের অন্দরে বস্তাভর্তি ফর্ম-৬ এর ছবি এবং ভিডিও প্রকাশ করে অভিষেক লিখেছেন, “বিজেপি বাংলায় আসল ম্যাচ খেলছে।”

অভিষেকের এক্স হ্যান্ডলে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে কমিশনের দপ্তরে মেঝেতে বহু ফর্ম-৬ পড়ে রয়েছে দেখা যাচ্ছে। অপর ভিডিওটিতে অভিযুক্ত ভবানীপুরের বিজেপি কর্মীকে কমিশনের দপ্তরের লিফটে উঠতে দেখা যাচ্ছে। এই দু’টি ভিডিও পোস্ট করে অভিষেক লিখেছেন, “বিজেপি ভোটার তালিকা কারচুপির নোংরা শিল্পে সিদ্ধহস্ত হয়ে উঠেছে। তারা দিল্লি ও মহারাষ্ট্রে এর প্রস্তুতি সেরেছে। এখন তারা বাংলায় আসল ম্যাচ খেলছে।”

তিনি আরও লিখেছেন, “মহারাষ্ট্রে ৫ বছরে ৪৩,৮৪,৮১৪ জন ভোটার যুক্ত হয়েছিল এবং মাত্র ৫ মাসে আরও ৪০,৮১,২২৯ জন যুক্ত হয়েছে। দিল্লিতে ৪ বছরে ৪,১৬,৬৪৮ জন ভোটার যুক্ত হয়েছিল এবং মাত্র ৭ মাসে আরও ৩,৯৯,৩৬২ জন যুক্ত হয়েছে। আমি তখন সতর্ক করেছিলাম যে আসল কারচুপি ইভিএম-এ নয়, ভোটার তালিকায়। বাংলা এখন ঠিক তারই সাক্ষী হচ্ছে।”

এখানেই থামেননি অভিষেক। কমিশনকে তোপ দেগে তিনি আরও লিখেছেন, “এই ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে যে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ে জাল ফর্ম-৬ আবেদনপত্রে ভর্তি কার্টন প্রকাশ্যে জমা দেওয়া হচ্ছে এবং তৃতীয় তলায় স্তূপ করে রাখা হচ্ছে। এটি বিহার ও উত্তরপ্রদেশ থেকে ভোটারদের অবৈধভাবে বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার একটি প্রচেষ্টা। অবাক করার বিষয়, কীভাবে নির্বাচন কমিশন এই ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করে অনুমতি দিয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নিয়মে কোথাও ফর্ম ৬-এর গণহারে জমা দেওয়ার অনুমতি নেই। প্রতি ব্যক্তির জন্য আবেদনের সীমা স্পষ্টভাবে ৫০টিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। তবুও এখানে, মাত্র কয়েকজন ব্যক্তি হাজার হাজার ফর্ম জমা দিচ্ছেন— যা কেবল নিয়মের নির্লজ্জ লঙ্ঘনই নয়, বরং একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তির উপরও আঘাত।”

তাঁর সংযোজন, “আমরা নিজেদের বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে দাবি করি, অথচ আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারের রক্ষকরাই এর বিনাশের পথকে সহজ করছে। বিজেপি যখন ‘পাল্টানো দরকার’ বলে চিৎকার করেছিল, তখন তাদের আসল উদ্দেশ্য ছিল ‘ভোটার তালিকা পাল্টানো দরকর’। যখন তারা ‘পরিবর্তন’ বলে চেঁচিয়েছিল, তখন তাদের উদ্দেশ্য ছিল এক জনবিন্যাস পরিবর্তন— বাংলার নিজস্ব ভোটারদের সরিয়ে বিজেপি-শাসিত রাজ্যগুলি থেকে আনা ভোটারদের দিয়ে প্রতিস্থাপন করা।”

তৃণমূল সূত্রে খবর, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বিজেপি কর্মীদের দ্বারা ফর্ম ৬-এর আবেদনপত্র অবৈধভাবে গণহারে জমা দেওয়ার ঘটনার তদন্ত চেয়ে  পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।