আজকাল ওয়েবডেস্ক: জেল খাটা বিধায়ক আর টিকিট পাবেন না। জল্পনা রটেছিল ভোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণার আগেই‌। কিন্তু হাবড়ার জনসভায় তৃণমূল সুপ্রিমো পদে পদে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক তাঁর 'ফেভারিট'। জেলযাত্রার জন্য মন্ত্রিসভা থেকে সরালেও, 'দিদি' দরাজ কণ্ঠে বলেছিলেন, 'বালুর মতো এত ভাল কাজ কেউ করেনি!' 

সেই জ্যোতিপ্রিয়ই এবার হাবড়া কেন্দ্রে ডাহা ফেল। ৩১ হাজার ৪৬২ ভোটে হারলেন বিজেপির দেবদাস মণ্ডলের কাছে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, বিজেপির জয়ী প্রার্থী দেবদাস মণ্ডল পেয়েছেন এক লক্ষ চার হাজার ৬৪৫ ভোট। অন্যদিকে তৃণমূলের জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক পেয়েছেন ৭৩ হাজার ১৮৩ ভোট। 

সময়টা ২০০১ সাল। বাংলা জুড়ে তখন লাল ঝড়। বাম জমানায় উত্তর ২৪ পরগনার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বদলে গিয়েছিল তাঁর হাত ধরেই। বাম সরকারের আমলে পরিবর্তনের ডাক দিয়েই জয়ের মুখ দেখতে শুরু করেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। ২০০১ ও ২০০৬ সাল। পরপর দু'বার গাইঘাটা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। 

এরপর চলে আসেন হাবরা বিধানসভা কেন্দ্রে। ২০১১ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এই কেন্দ্রেই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। পেয়েছিলেন বনমন্ত্রী ও খাদ্যমন্ত্রীর কুর্সিও। তবে এই দায়িত্ব পালনের সুযোগ বেশিদিন পাননি। 

২০২৩ সাল জ্যোতিপ্রিয়র দীর্ঘ রাজনৈতিক কেরিয়ারে এক বড় বাঁক। রেশন দুর্নীতি মামলায় ২০২৩ সালের ২৭ অক্টোবর গ্রেপ্তার হন জ্যোতিপ্রিয়। গ্রেপ্তারির ১৪ মাস পর জামিন পান প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী। গতবছর ১৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতি মামলায় জামিন পান তিনি। 

জেলে কাটানো ১৪ মাস ভুলে যেতে চেয়েছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। ভুলিয়ে দিতে চেয়েছিলেন হাবড়া বিধানসভার মানুষকেও‌। তাই জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরেই জনসংযোগে বেরিয়ে পড়েছিলেন। হাবড়ায় দায়িত্ব পাওয়ার পাশাপাশি বিধানসভাতেও সবসময় সক্রিয় ছিলেন। এই সক্রিয় ভূমিকার কারণেই 'হারানো' মর্যাদা একটু একটু করে ফিরে পাচ্ছিলেন। 

ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের জন্য বারাসত সাংগঠনিক জেলার কোর কমিটি গঠন করেছিল তৃণমূল। সেই কমিটির যুগ্ম আহ্বায়কের পদ পেয়েছিলেন হাবড়ার বিধায়ক তথা প্রাক্তন মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক। এটিই ছিল বিধানসভা নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার প্রথম ইতিবাচক ইঙ্গিত। 

লড়াইয়ের প্রথম লগ্ন থেকেই 'দিদি'র ভরসার পাত্র 'বালু'। তাই বর্ধমানের ছেলেকে কলকাতা ছেড়ে খাস উত্তর ২৪ পরগনায় পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। ক্রমেই হাতের তালুর মতো চেনা পরিসর হয়ে ওঠে এই জেলা। টানা ষষ্ঠবারের নির্বাচনের লড়াইয়ে জ্যোতিপ্রিয় দুর্নীতির অভিযোগ, ১৪ মাসের জেলযাত্রাকে কোনও গুরুত্ব দেননি। কিন্তু জেল থেকে জামিনের ১৪ মাস পরেও সেই দুর্নীতির কথা মানুষ মনে রেখেছিলেন। সেটা ফলাফলেই স্পষ্ট।