সিনেমায় রাজ চক্রবর্তী মানেই হিট৷ রাজনীতির ময়দানে প্রথমবার হিট দিলেও দ্বিতীয়বার পরাজিত হলেন রাজ।  ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচন বঙ্গ রাজনীতির ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারকাপ্রার্থী রাজের রাজত্বে ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে শিকে ছিঁড়ল না তৃণমূলের।  বিজেপির কৌস্তুভ বাগচীর কাছে ভোটে পরাজিত রাজ৷ হারের ব্যবধান ১৫৮২২

রাজ চক্রবর্তীর প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপি প্রার্থী কৌস্তুত বাগচী, বামফ্রন্ট মনোনীত সিপিআইএম প্রার্থী সুমন রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেসের শুম্ভু দাস৷ 

জেতার বিষয় আশাবাদী ছিলেন রাজ৷ বলেছিলেন '৪ঠা মে প্রলয় ৩' হবে৷ কিন্তু গণনা শেষ হওয়ার আগেই গণনাকেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যেতে দেখা গেল রাজ চক্রবর্তীকে৷  

বিমর্ষ রাজকে দেখতে পেয়েই বিরোধী শিবির থেকে স্লোগান দেওয়া হয়৷ এমনকি কাদা ছুড়ে মারা হয় রাজকে৷ তৃণমূল কর্মী সমর্থকেরা রাজকে ঘিরে রাখলেও রাজের সাদা পাঞ্জাবিতে কাদা লাগে৷ মাথা নীচু করে গণনাকেন্দ্র থেকে বেরিয়ে যান রাজ চক্রবর্তী।  

২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের হয়ে জিতেছিলেন রাজ চক্রবর্তী। বিজেপির চন্দ্রমণি শুক্লাকে হারিয়ে জিতেছিলেন রাজ৷ জয়ের ব্যবধান ছিল ৯ হাজার ২২২। 

 ২০২১ সালে ব্যারাকপুরে সবুজায়নের দায়িত্ব রাজ চক্রবর্তীকে দিয়েছিলেন তৃণমূলসুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ২০২৬ সালেও সেই দায়িত্ব কাঁধে নিয়েছিলেন রাজ চক্রবর্তী। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। 

পরিচালকের ঘনিষ্ঠরা বলেন রাজ দক্ষ সংগঠক৷ সকলকে নিয়ে চলতে পছন্দ করেন৷ প্রচারেও ছিল সেই ঝলক। কখনও সেল্ফি তুলে কখনও আবার ভোটের ফলাফল প্রসঙ্গে প্রলয় ৩ হবে বলে রাজকীয় কায়দায় প্রচার সেরেছিলেন রাজ৷ এমনকি ভোটের দিনও বুথে না গিয়ে ক্যারাম খেলতে দেখা গিয়েছিল রাজ চক্রবর্তীকে৷ সিনেমা থেকে বাজনীতি সর্বত্র চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন রাজ। রাজনীতির ময়দানে চ্যালেঞ্জ নিয়েও গড় রক্ষা করতে পারলে না  রাজ চক্রবর্তী৷