আজকাল ওয়েবডেস্ক: সম্পর্কে একে অপরের ননদ -বৌদি। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুল না পদ্ম- মতুয়াগড় বাগদায় ফুটবে কোন ফুল? সম্মুখ সমরে ননদ ও বৌদি মুখোমুখি হতেই প্রশ্ন ছিল জোরাল। ননদ তৃণমূলের মধুপর্ণা ঠাকুর। তাঁর প্রতিপক্ষ বিজেপি প্রার্থী বৌদি সোমা ঠাকুর। দু'জনেই এক পরিবারের সদস্য। সোমা ঠাকুর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী অপরদিকে মধুপর্না ঠাকুর তৃণমূলের রাজ্যসভা সংসদ মমতাবালা ঠাকুরের মেয়ে ৷
বাগদা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০২৪ সালের উপনির্বাচনে মমতাবালার মেয়ে মধুপর্ণা ঠাকুর তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিধায়ক নির্বাচিত হন। চলতি বিধানসভা নির্বাচনেও মধুপর্ণাকে বাগদায় দল ফের টিকিট দিয়েছিল। উল্টোদিকে, বিজেপি ওই কেন্দ্রে প্রার্থী করেছিল শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুরকে। ঠাকুর পরিবারের ননদ ও বৌদির 'খুনসুটি' অবশ্য দেড় দশক আগেই বিলীন হয়েছে। ভোটের লড়াইয়ে সম্পর্কের আবেগ এতটুকু দেখা মেলেনি। পরস্পরকে আক্রমণ করতে দু'পক্ষের কাউকেই পিছপা হতে দেখা যায়নি৷
কিন্তু সোমবার ভোট গণনার পর দেখা গেল সোমা ঠাকুর জিতেছেন ৩৪,৬১৬ ভোটে। তিনি পেয়েছেন এক লক্ষ ২১ হাজার ৩০৭ ভোট। অন্যদিকে মধুপর্না পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৯১টি ভোট।
২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় মতুয়া অধ্যুষিত বাগদা বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ছিল প্রায় ২ লক্ষ ৮৮ হাজার। এসআইআর-এ প্রায় ৫০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দিয়েছে। ফলে বাগদা বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল এবার অনিশ্চিত হয়ে পড়েছিল। তৃণমূলের দাবি ছিল, বাদ যাওয়া ভোটারদের বেশিরভাগই বিজেপি সমর্থক ছিলেন। তাই, তাদের জয় একপ্রকার নিশ্চিত। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, তালিকায় মৃত ও দূরে থাকা ভোটার-সহ যেসব নাম বাদ গিয়েছে, সেগুলো তৃণমূলের পক্ষেই যেত। অঙ্কের হিসেবে তারাই এবার জয় লাভ করেছেন।
তৃণমূল ও বিজেপির লড়াই ঘিরে গত দেড় দশক ধরে মতুয়া গড়ে বিজেপি ও তৃণমূলের মধ্যে 'দখল'-এর লড়াই চলছে ৷ প্রথমে অবশ্য মতুয়াতীর্থ ঠাকুরবাড়ির পুরোটাই তৃণমূলের নিয়ন্ত্রণে ছিল। কপিলকৃষ্ণের ভাই মঞ্জুলকৃষ্ণ ঠাকুর তৃণমূলের টিকিটে গাইঘাটার বিধায়ক ও রাজ্যের উদ্বাস্তু পুনর্বাসন দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছিলেন। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে মঞ্জুলকৃষ্ণ তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। তারপর থেকে ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ি আড়াআড়ি দু'-ভাগ হয়ে গিয়েছে। কপিলকৃষ্ণ ঠাকুর তৃণমূলের সাংসদ হন৷ কপিলকৃষ্ণের মৃত্যুর পর তাঁর স্ত্রী মমতাবালা ঠাকুর তৃণমূলের টিকিটে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে মঞ্জুলকৃষ্ণের ছেলে শান্তনু ঠাকুর বিজেপির টিকিটে নির্বাচিত হয়ে সাংসদ ও মন্ত্রী হয়েছেন। ঠাকুরনগরের ঠাকুরবাড়ির সেই লড়াই দিনে দিনে ছড়িয়ে পড়েছে বৃহত্তর বনগাঁয়।
















