আজকাল ওয়েবডেস্ক: শওকতকে কুপোকাত করে ভাঙড়ে বিরাট জয় নওশাদের৷ দক্ষিণ ২৪ পরগনার ১৪৮ নম্বর ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে এবারের নির্বাচনে বিরাট চমক। তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই কেন্দ্রে শাসক দলের প্রার্থী শওকত মোল্লাকে পরাজিত করে জয় ছিনিয়ে নিলেন আইএসএফ প্রার্থী নওশাদ সিদ্দিকী। প্রায় ২৯ হাজার ভোটের ব্যবধানে এই জয় রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভোট গণনার শুরু থেকেই লড়াই জমে উঠেছিল। প্রথম কয়েক দফায় এগিয়ে ছিলেন তৃণমূল প্রার্থী শওকত মোল্লা। কিন্তু পরবর্তী রাউন্ডগুলিতে ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে শুরু করেন নওশাদ সিদ্দিকী। শেষ পর্যন্ত একাধিক রাউন্ডে ধারাবাহিক লিড বজায় রেখে তিনি বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করেন। ফলাফল ঘোষণা হতেই আইএসএফ কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উচ্ছ্বাসের ঢেউ দেখা যায়। বিভিন্ন এলাকায় সবুজ-সাদা নয়, বরং আইএসএফের পতাকা নিয়ে মিছিল, আবির খেলা ও মিষ্টিমুখের মাধ্যমে উদযাপন শুরু হয়।
নওশাদ সিদ্দিকীর এই জয়কে অনেকেই “প্রতিষ্ঠান বিরোধী ভোটের প্রতিফলন” হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় উন্নয়নের ক্ষেত্রে ঘাটতি এবং সংগঠনগত অসন্তোষ এই ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে।
অন্যদিকে, আইএসএফ প্রার্থীর জনসংযোগ, মাটির মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আর ধারাবাহিক প্রচারও এই জয়ের অন্যতম কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে এই ফলাফল অবশ্যই বড় ধাক্কা। শওকত মোল্লা দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলের পরিচিত মুখ এবং সংগঠনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেতা। ফলে তাঁর এই পরাজয় দলীয় কর্মীদের মধ্যে কিছুটা হতাশা তৈরি করেছে। যদিও দলীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ফলাফল পর্যালোচনা করে ভবিষ্যতে সংগঠন আরও মজবুত করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
এদিকে, আইএসএফের কাছে এই জয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাঙড় কেন্দ্রটি বহুদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর এলাকা হিসেবে পরিচিত। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে এত বড় ব্যবধানে জয় পাওয়া নিঃসন্দেহে দলকে নতুন আত্মবিশ্বাস দেবে।
নওশাদ সিদ্দিকী জয়ের পর সাধারণ মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এটা মানুষের জয়। তারা পরিবর্তন চেয়েছেন, আর সেই পরিবর্তনের পক্ষেই ভোট দিয়েছেন।” ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করল।
















