আজকাল ওয়েবডেস্ক: অভিষেক ব্যানার্জি সোমবার অভিযোগ করেছিলেন। মঙ্গলবার সেই অভিযোগ তুলেই জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখলেন মমতা ব্যানার্জি। মঙ্গলবার মমতা ব্যানার্জি সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেছেন নিজেই, সেই চিঠির ছবি। 

সোমবার অভিষেকের অভিযোগ ছিল, 'আমরা বিভিন্ন জেলা থেকে নির্ভরযোগ্য খবর পাচ্ছি যে বিপুল সংখ্যক ফর্ম ৬ (নতুন ভোটার) আবেদনপত্র সন্দেহজনক পদ্ধতিতে জমা দেওয়া হচ্ছে। এগুলো সাধারণ সংযোজন নয়। গুরুতর উদ্বেগ রয়েছে যে এগুলির মধ্যে এমন অনেকব্যক্তিদের যোগ থাকতে পারে, যাঁদের বাংলার সঙ্গে কোনও প্রকৃত সম্পর্ক নেই—এখানে বসবাসও করেন না, এখানে কাজ করেন না এবং যাঁদের কোনও যোগ নেই এই রাজ্যের কোনও স্বার্থের সঙ্গেই।' 

মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চিঠির ছবি পোস্ট করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখলেন, 'বাংলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের বিরুদ্ধে যে গুরুতর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে, সে বিষয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করে আমি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে চিঠি লিখেছি। অনিবাসী এবং বহিরাগতদের বাংলার ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্দেশ্যে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হাজার হাজার জাল ফর্ম ৬ আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় বিজেপির এজেন্টরা হাতে-নাতে ধরা পড়েছে। এটি ভোটার অপহরণের একটি প্রচেষ্টা, ঠিক সেই নোংরা খেলা যা বিজেপি মহারাষ্ট্র এবং দিল্লিতে সফলভাবে খেলেছে।' 

?s=48

সঙ্গেই মমতা লিখেছেন, 'যেখানে ৬০ লক্ষেরও বেশি প্রকৃত ভোটারের নাম বিচারাধীন রয়েছে এবং ত্রুটিপূর্ণ এসআইআর প্রক্রিয়ার কারণে ইতোমধ্যে ২০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে, সেখানে নির্বাচন কমিশন এখন সন্দেহজনকভাবে বন্ধ দরজার পিছনে এই বিপুল সংখ্যক জাল আবেদনপত্র দ্রুত নিষ্পত্তি করতে ব্যস্ত। এটি কেবল বেআইনি এবং মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধেই নয়, বরং বাংলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের উপর একটি সরাসরি আঘাত।'

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে মমতা লিখেছেন, 'আমি দাবি জানিয়েছি যে, নির্বাচন কমিশন যেন অবিলম্বে এই অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বন্ধ করে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করে এবং ২৮.০২.২০২৬ তারিখে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের পর যেন কোনও ভুয়ো ভোটার যুক্ত না হয় তা নিশ্চিত করে। বাংলা দিনের আলোতে তার গণতন্ত্র চুরি হতে দেবে না। বাংলার মানুষ সব দেখছে।' 

এর আগে, সোমবার ফর্ম ৬ নিয়ে অভিযোগ তুলে অভিযোগ ব্যানার্জি সিইও দপ্তরে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে বেরিয়ে অভিষেক বলেন, 'কমিশন বলছে ৩০ হাজার ফর্ম ৬ জমা পড়েছে। তাহলে কমপক্ষে ৬০০ জনকে উপস্থিত হতে হয়। আমরা ২৪ ঘণ্টার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ্যে আনতে বলেছি। আমরা যে দাবি জানিয়েছি, তার কোনও সদুত্তর ছিল না।'