আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাত শিবিরে তখন। তখন থেকেই পরিচয় মমতা ব্যানার্জি আর খগেশ্বর রায়ের। পরে তৃণমূল কংগ্রেসের জন্ম। উত্তরের এক জেলার জন্য গোড়া থেকেই মমতা ভরসা রেখেছিলেন 'খগেশ্বর দা'র উপরে। তারপর বাংলার রাজনীতিতে জল বয়েছে বিপুল। প্রথমদিকের ভোটে পরাজয় এলেও, তারপর থেকে টানা ভোট জিতে গিয়েছেন খগেশ্বর রায়। তবে এবার ছবি কিছুটা আলাদা। তৃণমূল কংগ্রেস রাজগঞ্জ আসনের জন্য, চারবারের বিধায়ককে টিকিট দেয়নি। এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ঘাসফুল শিবির এবার একযোগে ৭৪ বিধায়ককে এবার প্রার্থী তালিকা থেকে বাদ দিয়েছে। তাঁদের মধ্যেই একজন খগেশ্বর। তাঁর জায়গায় তৃণমূল প্রার্থী করেছে সোনার মেয়ে স্বপ্নাকে। তারপরেই বেঁকে বসেন খগেশ্বর। বলেন, তিনিই ফাটল ধরিয়েছিলেন বাম দুর্গে। আর তাঁকেই প্রার্থী করল না দল। মঙ্গল দুপুরে তালিকা ঘোষণা হতেই, দলীয় পদ ছাড়ার কথা ঘোষণা করেন।
তবে একদিনেই পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত। খগেশ্বর অভিমানী হতেই, তাঁকে ফোন করেন খোদ মমতা ব্যানার্জি। তেমনটাই জানিয়েছেন খগেশ্বর রায়। আজকাল ডট ইন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, বুধবার, রাতে মমতা ব্যানার্জি তাঁকে ফোন করেন। বলেন, 'হুট করে ২০২৬-এর তালিকায় নিজের নাম নেই দেখলাম। বহুদিন ধরে দল করেছি। বাম দুর্গে ফাটল বসিয়েছি। নাম না দেখে, আমি দুঃখ পেয়েছিলাম, তাছাড়া সমর্থকেরাও ভেঙে পড়ে। তাতে আমিও আবেগতাড়িত হয়ে ঘোষণা করি দলত্যাগ করার।'
তারপরেই বলেন, 'দিদি গতকাল পৌণে দশটা নাগাদ ফোন করেন। বলেন ভোট মিটে যাক, দেখব দলে কোন পদে দায়িত্ব দেওয়া যায়। আমি বলেছি, আমি দল ছাড়িনি। জলপাইগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেছি। আমি বলেছি, আপনি যতদিন আছেন, ততদিন আমি তৃণমূলে আছি। জীবন দিয়ে লড়াই করব।'
এই প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, ২৯১ আসনের প্রার্থী তালিকায় এবার একেবারে ছেঁটে ফেলা হয়েছে 'স্টার গ্লো'। বদলে যে কথা অভিষেক এর আগেও বারবার বলেছেন, দলে গুরুত্ব দেওয়া হবে পারফম্যান্সকে। দেওয়া হলও তাই। দল বাদ দিল ৭৪ জন সিটিং বিধায়ককে। মমতা কি জানতেন না, এক ধাক্কায় ভোটের মুখে এতজন বিধায়ককে টিকিট না দিলে তাঁরা ক্ষোভ দেখাতে পারেন? তাঁদের অনুরাগী, অনুগামীরা বিক্ষুব্ধ হলে সমস্যা হতে পারে? জানতেন বিলক্ষণ। এই প্রসঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে একটি প্রসঙ্গ। দলের সুপ্রিমো, জনগণের কাছে ভোট চাইতে গিয়ে, বলেন, বিধায়ক প্রার্থী আসনে আসনে পৃথক, দলের মুখ কিন্তু তিনি। তিনিই। অর্থাৎ মমতা জানেন, দলের যে 'খেলা'র কথা বলেন নেতা কর্মীরা, তা ঘোরান তিনি নিজেই। সেক্ষেত্রে এক যোগে ৭৪ বিধায়ককে টিকিট না দিতে, বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেননি তিনি। কেন্দ্র বদল করে দিয়েছেন ১৫ বিধায়কেরও।
