আজকাল ওয়েবডেস্ক: গেরুয়া শিবির শুক্রবার প্রকাশ করেছে ২৬-এর নির্বাচনে দলের ইস্তেহার 'সংকল্প পত্র'। কয়েকঘণ্টা যেতেই, তার পালটা পয়েন্ট তুলে সংবাদ মাধ্যমের সামনে হাজির হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। মনে করালেন নিজের করা ৭৫৭ দিন আগের টুইট।  

 

কী কী বললেন অভিষেক?

 

বললেন, 'আমি আশা করেছিলাম, যেভাবে গত ছ'মাস ধরে এসআইআর-এর নামে নির্বাচন কমিশন এবং বিজেপি বাংলায় প্রহসন চালিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রি এসে আগে বাংলার মানুষের কাছে ক্ষমা চাইবেন  তারপর বক্তব্য শুরু করবেন। তিনি ক্রোনোলজি, ডিটেক্ট, ডিলিট, ডিপোটের কথা বলেছিলেন।' 

 

এসআইআর প্রসঙ্গে অভিষেক বলেন, 'এসআইআর ডিটেক্ট করার প্রথম ধাপ। তাঁর কথা অনুযায়ী। এখনও পর্যন্ত যে নাম বাদ গিয়েছে তালিকা থেকে, প্রথম যে তালিকা ফেব্রুয়ারি মাসে প্রকাশিত হয়, সেখানে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল, পরবর্তীকালে সাড়ে পাঁচ-ছ' লক্ষ নাম বাদ গিয়েছিল। বিচারাধীন তালিকায় ২৭ লক্ষ নাম বাদ। সব মিলিয়ে প্রায় ৯০ লক্ষের উপরে নাম, বাংলা থেকে বাদ দিয়েছে। তার মধ্যে প্রায় ৬৩ শতাংশ নাম হিন্দু বাঙালির।' 

 

অভিষেকের কথায় অসমের প্রসঙ্গ, এনআরসি প্রসঙ্গ। তুললেন, ভিন রাজ্যে বাঙালিদের উপর অত্যাচারের প্রসঙ্গ। 

 

অভিষেকের কথায় এদিন শেখ হাসিনা প্রসঙ্গ। বলেন, 'বাংলাকে যদি বাংলাদেশ পরিচালিত করে তাহলে দিল্লিতে শেখ হাসিনা কী  করছেন? জবাব আছে? দেড় বছর ধরে নরেন্দ্র মোদির সরকার মোদি সরকার কী কারণে আশ্রয় দিয়েছে? কোন শিল্পপতিকে বাঁচানোর জন্য।  শেখ হাসিনার স্ট্যাটাস কী? তিনি কি অনুপ্রবেশকারী না শরণার্থী? অমিত শাহ জবাব দিতে পারবেন?' 

 

বিজেপির ইস্তেহারের প্রতিশ্রুতি পয়েন্ট ধরে ধরে পাল্টা জবাব দেন অভিষেক। অনুপ্রবেশ ইস্যুতে কাশ্মীর-পহেলগাঁও প্রসঙ্গ তুলে কটাক্ষ। প্রশ্ন করলেন, দিল্লি পুলিশ কার নিয়ন্ত্রণে?

 

নিজের করা ৭৫৭ দিন আগের টুইটের প্রসঙ্গ অভিষেকের বক্তব্যে।  ১৪ মার্চ ২০২৪-এর সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট তুলে ধরলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বলেন, 'লিখেছিলাম, গত ৫ বছরে কত টাকা দিয়েছেন আবাস যোজনায়? শ্বেতপত্র প্রকাশ করুন। আজও করেনি।'

 

অভিষেক বললেন, 'যারা দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করবে বলে দাবি করেছে, সবথেকে দুর্নীতিগ্রস্ত যারা বিভিন্ন প্রান্তের, যাঁদের উপর ভুরিভুরি অভিযোগ, ইডি-সিবিআই ডেকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদ করেছে, পরেরদিন বিজেপিতে গিয়েছে, সব ধোয়া তুলসিপাতা হয়ে গিয়েছে।'

 

বিজেপির সংকল্প প্রকাশের সময় শাহ বলেন, সকল সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীদের ডিএ সুনিশ্চিত করা হবে বাংলায় ক্ষমতায় এলে। ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার কথাও বলা হয়েছে। অভিষেক বললেন, 'তিনি বাংলার বাজেট পড়েনইনি।' 

 

বিজেপির ইস্তেহারের চাকরির প্রতিশ্রুতিকেও কটাক্ষ করেন অভিষেক। সঙ্গেই বলেন, 'সারা বাংলা জুড়ে পাঁচ হাজার লোক দেখাক, যাকে নরেন্দ্র মোদির সরকার, গত ১২ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে, কোনও  যুবক বা যুবতীর হাতে একটা কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তাঁদের কেন্দ্রের সরকার তুলে দিয়েছে।' 

 

এদিন অভিষেক বলেন, 'ইডি-সিবিআই যখন রেড করতে আসে, তখন তো রাজ্যের পুলিশকে জানিয়ে আসে না।  সরাসরি আসে। আপনি যদি দু'কোটি ৪২ লক্ষ মহিলাকে তিন হাজার টাকা দিতে চান, রাজ্য সরকারকে বাইপাস করে সরাসরি দিন।  কেউ তো বারণ করছে না।আপনি যদি যুবক-যুবতীদের তিন হাজার টাকা দিতে চান, তার সঙ্গে ভোটের কী। আপনি দিন সরাসরি, কেউ তো বারণ করছে না।' 

 

&t=1s