মিল্টন সেন, হুগলি: প্রার্থী হওয়ার পেছনে রয়েছে লেনদেন। মারাত্বক অভিযোগ বলাগড়ে বিজেপি প্রার্থী পদ নিয়ে। অভিযোগ তুলেছেন, খোদ বিজেপি জেলা সম্পাদক। দাবি, প্রার্থী বদল করতেই হবে। নাহলে নির্বাচনে অংশ নেবে না কর্মীরা। হুগলির বলাগড় কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীকে নিয়ে ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিধানসভা কেন্দ্রের সর্বত্র। দল মনোনীত প্রার্থী সুমনা সরকারকে মানতে নারাজ দলের মন্ডল, কার্যকর্তা থেকে কর্মী সমর্থক সকলেই। ফলে প্রার্থীর সঙ্গ ছেড়ে তাঁরা চাষের কাজে মন দিয়েছেন।
ফ্লেক্স ব্যানার লাগানোর লোক পর্যন্ত নেই বিজেপি প্রার্থীর। নাজেহাল বহিঃরাজ্য মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ থেকে জেলায় আসা বিজেপি পর্যবেক্ষকরা। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার ব্যাপক চেষ্টা চালিয়েও কাজ হচ্ছে না। সমস্যার সূত্রপাত দ্বিতীয় দফায় প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই। চরম বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় জেলা বিজেপি অফিসে। বলাগড় বিধানসভা এলাকার বিজেপি কর্মীদের ক্ষোভের আগুন আছড়ে পড়ে চুঁচুড়া তিন নম্বর গেট সংলগ্ন বিজেপির জেলা কার্যালয়ে।
বলাগড় থেকে জেলা বিজেপির সম্পাদক রীনা প্রামাণিক, পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা কাশীনাথ কোলের নেতৃত্ত্বে কাতারে কাতারে বিজেপি কর্মী সমর্থকরা হাজির হয় কার্যালয়ে। জেলা অফিস ঘিরে চলে বিক্ষোভ প্রদর্শন। দীর্ঘ সময় ঘিরে রাখা হয় জেলা সভাপতি গৌতম চ্যাটার্জীকে। রীতিমতো হামলা চালানো হয় কার্যালয়ে। ভাংচুর করা হয় কার্যালয়ে থাকা আসবাবপত্র। তাঁদের অভিযোগ, বলাগড়ের বিজেপি প্রার্থী সুমনা সরকারকে তারা মানছেন না। এই অভিযোগ তুলে গভীর রাত পর্যন্ত বিজেপি কর্মীরা হুগলি জেলা বিজেপি অফিসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকে।
তাঁদের দাবি অবিলম্বে প্রার্থী বদল করা না হলে প্রয়োজন তাঁরা দল ছাড়তেও প্রস্তুত। বিজেপি জেলা সম্পাদক রীনা প্রামাণিকের অভিযোগ, অন্য দল থেকে তাড়িয়ে দেওয়া একজনকে তার দল এত গুরুত্ব দেবে কেনও? কোনও দিন দলের কোনও কর্মসূচিতে সুমনা সরকারকে পাওয়া যায় নি। যারা প্রাণপাত করে এতদিন দল করল, দলের কাছে তাঁদের কোনও গুরুত্ব নেই। নিষ্ক্রিয় একজন পরিযায়ী, যার সঙ্গে দলের নিচুতলার কোনও সম্পর্ক নেই। এমন একজনকে প্রার্থী করল দল।
সুমনা সরকারকে প্রার্থী করার পেছনে লেনদেনের মারাত্বক অভিযোগ তুলেছেন রীতা দেবী। বলেছেন, এটাকে কোনও ভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। বলাগড়ের পঞ্চায়েত সদস্য তথা পঞ্চায়েতের বিরোধী দলনেতা কাশীনাথ কোলে বলেছেন, উচ্চ নেতৃত্ত্বের সঙ্গে কোনও লেনদেন না থাকলে এটা কোনওদিন সম্ভব নয়। অনেক কষ্ট করে তিনি ওই এলাকায় সংগঠন তৈরি করেছেন। দলের অন্য কোনও কার্যকর্তা প্রার্থী হলে তাদের আপত্তি ছিল না।কিন্তু কোনও পরিযায়ী পাখিকে তাঁরা মেনে নেবেন না। যারা প্রার্থী করেছে, তাঁরাই ওই প্রার্থীর নির্বাচনটাও করবে। ভিন রাজ্যের পর্যবেক্ষকরা তো বলাগড়ের মানচিত্রটাই জানেন না। ওরা কীভাবে নির্বাচন করবে?
&t=4sকাশীনাথ বাবুর দাবি একটাও বিজেপি কর্মী এই নির্বাচনে অংশ নেবে না। প্রয়োজনে তাঁরা রাজ্য বিজেপি দপ্তরে গিয়েও ধর্না দেবেন। বিক্ষোভ দেখাবেন। কোনও ভাবেই এই প্রার্থীকে তাঁরা মানবেন না। একই অভিযোগ বলাগড়ের বিভিন্ন মন্ডলের অন্তর্গত বিজেপি কর্মী সমর্থকদেরও। ফলে প্রচার দূরস্থান, প্রার্থী নিয়ে বলাগড়ে সাংগঠনিক অচলাবস্থা অব্যাহত।
