আজকাল ওয়েবডেস্ক: বীরভূমে অনুব্রত মণ্ডলই যে তাঁর 'প্রধান ভরসা' তা ফের বুঝিয়ে দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জি। বৃহস্পতিবার বীরভূমে গিয়ে দীর্ঘদিনের সহকর্মী বলে সম্মোধন করে অনুব্রত মণ্ডলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন 'দিদি' এবং সেটার পিছনে যে কারণ রয়েছে সেটাও বুঝিয়ে দেন তিনি।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে শুক্রবার দুবরাজপুর বিধানসভার অন্তর্গত খয়রাশোল ব্লকের গোষ্ঠডাঙাল মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভা থেকে জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল ওরফে কেষ্টকে নিয়ে তাঁর আস্থা ও নির্ভরতার বার্তা স্পষ্ট করে দেন তিনি। জনসভা উপলক্ষে এদিন কর্মী সমর্থক তথা এলাকাবাসীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। গোটা মঞ্চকে কড়া নিরাপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছিল।
সভামঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বীরভূম জেলাটা কেষ্টর নখদর্পণে। দীর্ঘদিন ধরে জেলা সংগঠনকে যেভাবে সামলেছে এবং প্রশাসনিক কাজকর্মে সহযোগিতা করেছে, তা দলের পক্ষে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এটা ঠিক কেষ্ট আমাকে অনেক হেল্প করেছে। কারণ বীরভূম জেলাটা ওর নখদর্পণে।
বীরভূমের যখনই 'অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ রিভিউ মিটিং' করতাম তখন ওরা সকলে মিলে আমাকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে যে সাজেশনগুলো দিত, সেগুলো নিয়ে কাজ করতাম।
তিনি আরও জানান, বীরভূমে তৃণমূল সরকারের আমলে যে উন্নয়ন হয়েছে, তার পেছনে জেলা নেতৃত্বের সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। শিক্ষার প্রসারে বিশ্ব বাংলা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নয়নে মেডিক্যাল কলেজ এবং কৃষিক্ষেত্রে উৎপাদন বৃদ্ধির মতো একাধিক প্রকল্পের উল্লেখ করেন তিনি। একইসঙ্গে বীরভূমের সংস্কৃতি, সম্প্রীতি এবং রাঙা মাটির ঐতিহ্যের কথাও তুলে ধরে জেলার মানুষের প্রতি গর্ব প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের আগে এই ধরনের প্রকাশ্য প্রশংসা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিরোধীদের একের পর এক আক্রমণের মাঝেও অনুব্রত মণ্ডলের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে দলনেত্রীর এই বার্তা স্পষ্ট করে দেয় যে, বীরভূমে সংগঠন চালানোর ক্ষেত্রে কেষ্ট এখনও প্রধান ভরসার জায়গা। এতে একদিকে যেমন জেলা তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে উদ্দীপনা তৈরি হবে, তেমনই বিরোধী শিবিরের উদ্দেশেও একটি শক্ত বার্তা পৌঁছবে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকেই ঘাসফুল শিবিরের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। রাজনৈতিক জীবনে একাধিক বিতর্ক ও ঝড়ঝাপটা সত্ত্বেও তিনি দলত্যাগ করেননি। গরু পাচারকাণ্ডে তিহার জেলে যেতে হলেও নিজের অবস্থানে অনড় ছিলেন তিনি। এমনকি বিজেপি থেকে প্রস্তাব পাওয়ার কথাও তিনি নিজেই স্বীকার করেছিলেন। কিন্তু তৃণমূল এবং মমতা ব্যানার্জীর প্রতি আনুগত্যের কারণে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন।
এই প্রেক্ষাপটে খয়রাশোলের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসা অনুব্রত মণ্ডলের রাজনৈতিক গুরুত্বকে নতুন করে সামনে নিয়ে এল বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা। স্বাভাবিকভাবেই, এতে অনুব্রত মণ্ডল আরও উজ্জীবিত হবেন এবং তার সরাসরি প্রভাব পড়বে দলীয় কর্মী-সমর্থকদের মনোবলে।
সব মিলিয়ে, বীরভূমের জনসভা থেকে উন্নয়নের বার্তার পাশাপাশি সংগঠনের শক্তি ও ঐক্যের বার্তাও দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। নির্বাচনের মুখে এই বার্তা যে তৃণমূলের প্রচারে বাড়তি গতি আনবে, তা বলাই বাহুল্য।















