আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি নিয়ে ফের বিতর্ক তৈরি হল। বাংলাদেশের শাসক দল বিএনপি পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা ব্যানার্জি। একইসঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির জয়ে বিএনপি আশাবাদী যে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও মজবুত হবে।
বিএনপির তথ্য সম্পাদক আজিজুল বারি হেলাল বলেন, বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে এই জয় একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তাঁর মতে, নতুন সরকার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আসার ফলে তিস্তা চুক্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে।
হেলাল আরও দাবি করেন, অতীতে তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের আমলে তিস্তা ব্যারাজ চুক্তি এগোয়নি মূলত রাজ্যের আপত্তির কারণে। তাঁর কথায়, “আগে আমরা দেখেছি মমতা ব্যানার্জি তিস্তা ব্যারাজ স্থাপনে প্রধান বাধা ছিলেন। এখন বিজেপি ক্ষমতায় আসায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হওয়ায়, এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়েছে।”
তিস্তা নদীর জলবণ্টন ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু জটিল বিষয়। ১৯৯৬ সালের গঙ্গা জল চুক্তি থাকলেও তিস্তা নিয়ে এখনও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে শুকনো মরশুমে পর্যাপ্ত জল না পাওয়ায় তাদের কৃষি ও জীবিকায় প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বারবার জানিয়েছে, রাজ্যের নিজস্ব জল প্রয়োজনের কথা মাথায় রেখেই তারা এই চুক্তিতে আপত্তি জানিয়েছে।
২০১১ সালে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং-এর ঢাকা সফরের সময় একটি প্রস্তাব সামনে আসে, যেখানে বাংলাদেশকে ৩৭.৫ শতাংশ এবং ভারতকে ৪২.৫ শতাংশ জল দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আপত্তির কারণে সেই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হয়নি। এর আগেও ১৯৮৩ সালে একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি হয়েছিল, কিন্তু সেটিও পুরোপুরি কার্যকর হয়নি।
বর্তমানে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের কারণে। নদীর জলের প্রবাহ কমে যাওয়ায় দুই দেশের মধ্যে জলবণ্টন নিয়ে চাপ বাড়ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ভারত ও বাংলাদেশ মোট ৫৪টি নদী ভাগ করে নিলেও এখন পর্যন্ত মাত্র দুটি চুক্তি—গঙ্গা ও কুশিয়ারা নদী নিয়ে—সাক্ষরিত হয়েছে।
বিএনপির মতে, আদর্শগত পার্থক্য থাকা সত্ত্বেও তিস্তা ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদি সরকারের সঙ্গে তাদের মতের মিল রয়েছে। তারা মনে করছে, পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পরিবর্তনের ফলে দিল্লি ও কলকাতার মধ্যে সমন্বয় বাড়বে এবং তার ফলেই তিস্তা জলবণ্টন চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়িত হতে পারে।
&t=136s
সব মিলিয়ে, তিস্তা ইস্যু শুধু একটি নদীর জল ভাগাভাগির প্রশ্ন নয়, বরং তা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং সীমান্তবর্তী মানুষের জীবিকার সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এখন দেখার বিষয়, নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ এই দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত সমস্যার সমাধান কতটা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারে।
















