আজকাল ওয়েবডেস্ক: এবারের বিধানসভা নির্বাচনে বাম-ডান এবং বিজেপি-সহ প্রায় সমস্ত রাজনৈতিক দলেরই অন্যতম লক্ষ্য মুর্শিদাবাদ জেলা। ২২ আসন বিশিষ্ট এই জেলায় যে দল বেশি সংখ্যক আসন জিতবে তারা সরকার গঠনে যে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে তা বলাই বাহুল্য।
আগামী ২৩ এপ্রিল মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। তার জন্যই ইতিমধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। শুক্রবার সরকারি ছুটি থাকায় কোনও মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে না। আগামী শনিবার এবং সোমবার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। তার আগে বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলার প্রশাসনিক ভবন-সহ জেলার অন্য কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী মনোনয়নপত্র জমা দিলেন একাধিক রাজনৈতিক দলের হেভিওয়েট প্রার্থীরা।
বৃহস্পতিবার মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা ব্যানার্জির দু'টি রাজনৈতিক জনসভা ছিল- সাগরদিঘি এবং সুতি বিধানসভা কেন্দ্রে। কিন্তু এরই মধ্যে এদিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার। কান্দি মহকুমা শাসকের অফিসে গিয়ে নিজের মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।
১৯৯৬ সালে নবগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবার বিধায়ক হয়েছিলেন অধীর চৌধুরী। এই ঘটনার প্রায় ৩০ বছর পর ফের একবার বিধানসভা নির্বাচনের ময়দানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন সাংসদ তথা দেশের লোকসভার প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা অধীর চৌধুরী। বৃহস্পতিবার তিনি বহরমপুরে প্রশাসনিক ভবনে গিয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেন। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী নাড়ুগোপাল মুখার্জি এবং বিজেপি প্রার্থী সুব্রত মৈত্রও আজ নিজেদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
রাজ্যে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে নতুন চমক ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের নতুন রাজনৈতিক দল 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের তাঁর দল 'মিম'-এর সঙ্গে জোট করে ২০৯টি কেন্দ্রে লড়বে বলে বহরমপুরে প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দিতে এসে জানান হুমায়ুন কবীর। 'আম জনতা উন্নয়ন পার্টি'র চেয়ারম্যান হুমায়ুন নিজে আজ রেজিনগর এবং নওদা এই দুই বিধানসভা কেন্দ্রে লড়ার জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
হুমায়ূন বলেন,"আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে ধরে এই নিয়ে আমি মোট পাঁচবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চলেছি। একবার লোকসভা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছি। আজ দু'টি কেন্দ্র থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে আমি যথেষ্টই আত্মবিশ্বাসী। দু'টি কেন্দ্রেই আমি কমপক্ষে ৫০ হাজারের বেশি ব্যবধানে জিতব।"
তিনি বলেন,"আমার নতুন রাজনৈতিক দল ন্যায়ের লড়াই লড়তে নেমেছে। মুর্শিদাবাদের ১৪টি আসন থেকে আমরা এবং তিনটি আসন - কান্দি , সুতি এবং রঘুনাথগঞ্জ থেকে এআইএমআইএম প্রার্থীরা লড়বেন।" মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে হুমায়ুন আজ জানান,"আগামী ৪ মে রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হবে এবং ৭ মে মধ্যে রাজ্যবাসী নতুন একজনকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাবে।"
বৃহস্পতিবার কান্দি মহকুমা শাসকের অফিসে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে কান্দির বিদায়ী তৃণমূল বিধায়ক তথা ওই কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী অপূর্ব সরকার বলেন," আমি সবসময়ই কান্দির মানুষের পাশে রয়েছি। তবে গোটা রাজ্য এখন এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বাংলা বিরোধী এবং সাম্প্রদায়িক শক্তি বাংলাকে সর্বতোভাবে নিপীড়ন করার চেষ্টা করছে। ধর্মনিরপেক্ষতা এবং সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই জারি থাকবে।"
আসন্ন বিধানসভায় নির্বাচনে হরিহরপাড়া কেন্দ্রে প্রার্থী সিপিআইএমের জেলা সম্পাদক জামির মোল্লা। এদিন তিনিও বহরমপুর প্রশাসনিক ভবনে মনোনয়নপত্র জমা দেন। তিনি জানান,"হরিহরপাড়া কেন্দ্রে আইএসএফ এবং বাম জোট জিতবে। সেখানকার পরিস্থিতি আমাদের অনুকূলেই রয়েছে। আজ আমাদের দলের প্রচুর কর্মী উৎসাহ নিয়ে মিছিল করে বহরমপুরে এসেছেন। এখান থেকে ফিরে গিয়ে তাঁরা হরিহরপাড়ায় জোরদার আন্দোলন করবেন।"।
অন্যদিকে এদিন বহরমপুরে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখার্জি। মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে তিনি বলেন,"আমি বহরমপুরে তৃণমূলের প্রার্থী হলেও বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান। তাই একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে প্রচার করছি, তেমনই একাধিক দায়িত্বও পালন করছি।"
নিজের জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত নাড়ুগোপাল মুখার্জি বলেন,"এই কেন্দ্রের অতি বড় কংগ্রেস সমর্থকও জানেন আসন্ন নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী হিসেবে আমিই জিতব। মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে অধীর চৌধুরীর তিনগুণ লোক রয়েছে। আমরা তৃণমূল কংগ্রেস সকলের কথা শুনি। আমরা সকলকে নিয়ে রাজনীতি করি।"
এর পাশাপাশি এদিন জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রগুলোতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন একাধিক বিজেপি প্রার্থী।
















