আজকাল ওয়েবডেস্ক: আসন্ন নির্বাচনী রণকৌশল নির্ধারণে ফের একবার আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। রবিবার ভবানীপুর কেন্দ্রে  দলীয় কর্মীদের এক সভায় তিনি সাফ জানিয়ে দেন, লক্ষ্য কেবল জয় নয়, হতে হবে রেকর্ড মার্জিন। গত নির্বাচনে ভবানীপুরের ২৩১টি বুথে যে লিড ছিল, এবার তাকে ছাপিয়ে অন্তত ৬০,০০০-এর বেশি ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করতে হবে। কোনোভাবেই আত্মতুষ্টিতে ভোগা চলবে না এবং প্রতিটি বুথে অন্তত ৫টি করে ভোট বাড়ানোর দায়িত্ব নিতে হবে কর্মীদের।

সূত্রের খবর, বিরোধীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, "যাঁদের এতদিন মানুষের বিপদে খুঁজে পাওয়া যায়নি, তাঁরা এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছেন। এই ভাঁওতাবাজি সাধারণ মানুষকে বোঝাতে হবে।" এদিন তিনি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় প্রকল্পের তুলনামূলক পার্থক্যও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, "আয়ুষ্মান ভারত পেতে গেলে স্মার্টফোন থাকলে চলে না, অথচ আমাদের 'স্বাস্থ্যসাথী' কার্ডে এমন কোনো বৈষম্যমূলক নিয়ম নেই। বিজেপি শাসিত একটি রাজ্য দেখাক যেখানে 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'-এর মতো প্রকল্প চলে। আমাদের সরকার যতদিন থাকবে, এই প্রকল্প ততদিন সগৌরবে চলবে।"

প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর জীবনযাত্রার পার্থক্য টেনে অভিষেক বলেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রীর বিলাসবহুল জীবন, অন্যদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজও সাধারণ মানুষের মতো টালির চালে থাকেন। তৃণমূল নেত্রীর ঘোষিত '১০টি শপথ' ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি ঘোষণা করেন, "বাংলা কোনোদিন দিল্লির কাছে মাথা নত করবে না। কলকাতার মধ্যে ভবানীপুরকে উন্নয়নের নিরিখে এবং জয়ের নিরিখে প্রথম সারিতে আসতে হবে।" রিপোর্ট কার্ড নিয়ে মানুষের কাছে বারবার যাওয়ার ডাক দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন, লড়াইটা এখন সম্মানের।

আগামিকাল ভোটার তালিকার সাপ্লিমেন্টারি লিস্ট বা অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার কথা। এই প্রক্রিয়ায় বহু মানুষের নাম বাদ পড়া বা সমস্যার সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে অভিষেক বলেন, "যাঁদের নাম বাদ যাবে বা এই প্রক্রিয়ার কারণে সমস্যায় পড়বেন, তাঁদের জন্য দল সবরকম আইনি সহায়তা প্রদান করবে। মনে রাখবেন, এই বাংলা কারও কাছে মাথা নত করবে না।"

কেন্দ্রীয় বঞ্চনা ও প্রকল্পের তুলনা টেনে তিনি বলেন: "কেন্দ্রীয় বঞ্চনাকে আমরা ভুলতে পারি না। এতদিন যাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি, তারা এখন ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করছে।" প্রধানমন্ত্রী ও মুখ্যমন্ত্রীর জীবনযাত্রার তুলনা টেনে তিনি বলেন, "পিএম হওয়ার পর ওঁর লাইফস্টাইল দেখুন, আর আমাদের সিএম-কে দেখুন, তিনি আজও সাধারণ মানুষের মতো টালির চালে থাকেন।" কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, "ওরা রান্নার গ্যাস দিতে পারে না, কিন্তু ভোটের সময় ক্যাশ বিলোয়।"

নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে অভিষেক অভিযোগ করেন, "গত তিন দিনে আমাদের হাত থেকে ক্ষমতা কেড়ে নিয়ে প্রায় ৫০ জন অফিসারকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আজ আমাদের হাতে কিছু নেই। যদি কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে, তবে তার দায় কে নেবে? মোদী না কি ভ্যানিশ কুমার (মনীষ কুমার)? দায় আপনাদেরই নিতে হবে।" তিনি কর্মীদের সতর্ক করে বলেন, বিজেপি বাইরে থেকে লোক এনে অশান্তি পাকাতে পারে, কিন্তু তৃণমূল শান্তি বজায় রেখে ভোট চায়। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, "মাথা ঠান্ডা করে চলবেন, আমরা শান্তিপূর্ণ ভোট চাই।"