বর্তমান সময়ে সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে সেভিংস অ্যাকাউন্ট এখনও সাধারণ মানুষের অন্যতম ভরসা। বিশেষ করে প্রবীণ নাগরিকদের কাছে নিয়মিত সুদ পাওয়ার জন্য ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
2
10
তবে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সুদের হার এক নয়। সময়ের সঙ্গে এই হার পরিবর্তিতও হয়। তাই ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাঙ্ক ও পোস্ট অফিসে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সেভিংস অ্যাকাউন্টে কত সুদ দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে গ্রাহকদের মধ্যে।
3
10
সরকারি ভরসাযোগ্য সঞ্চয় প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম হল পোস্ট অফিস সেভিংস অ্যাকাউন্ট। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে বছরে ৪ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিন পর্যন্ত অ্যাকাউন্টে থাকা সর্বনিম্ন ব্যালেন্সের উপর ভিত্তি করে সুদ গণনা করা হয়। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত রয়েছে— যদি ১০ তারিখ থেকে মাসের শেষ দিনের মধ্যে কোনও সময় অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স ৫০০ টাকার নিচে নেমে যায়, তাহলে সেই মাসে কোনও সুদ পাওয়া যাবে না।
4
10
অন্যদিকে দেশের বৃহত্তম সরকারি ব্যাঙ্ক স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা এসবিআই বর্তমানে প্রবীণ নাগরিকদের সেভিংস অ্যাকাউন্টে সব ধরনের ব্যালেন্সের জন্য বার্ষিক ২.৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে। সহজ পরিষেবা ও বিস্তৃত শাখা নেটওয়ার্কের কারণে বহু প্রবীণ গ্রাহক এখনও এসবিআইয়ের উপর নির্ভর করেন।
5
10
পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি সুবিধা দিচ্ছে। এই ব্যাঙ্কে স্তরভিত্তিক সুদের ব্যবস্থা রয়েছে। অ্যাকাউন্টে জমার পরিমাণ অনুযায়ী সুদের হার ২.৫ শতাংশ থেকে শুরু করে ৪.২৫ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ যাঁদের অ্যাকাউন্টে বেশি টাকা থাকে, তাঁরা তুলনামূলক বেশি সুদ পাওয়ার সুযোগ পান।
6
10
বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির মধ্যে এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক বর্তমানে সেভিংস অ্যাকাউন্টে সব ধরনের ব্যালেন্সের উপর বার্ষিক ২.৫ শতাংশ সুদ দিচ্ছে।
7
10
একইভাবে আইসিআইসিআই ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের জন্য ২.৫ শতাংশ সুদের হার বজায় রেখেছে। অ্যাকাউন্টে কত টাকা রয়েছে, তার উপর এই হার পরিবর্তিত হয় না।
8
10
অ্যাক্সিস ব্যাঙ্ক ২,০০০ কোটি টাকার কম ব্যালেন্সের ক্ষেত্রে সেভিংস অ্যাকাউন্টে ২.৫ শতাংশ সুদ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া কোটাক মাহিন্দ্রা ব্যাঙ্কেও বর্তমানে সেভিংস অ্যাকাউন্টে ২.৫ শতাংশ সুদ প্রদান করছে।
9
10
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র সুদের হার দেখেই সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। ব্যাঙ্কের পরিষেবা, এটিএম সুবিধা, অনলাইন ব্যাঙ্কিং, নিরাপত্তা এবং জরুরি সময়ে টাকা তোলার সুবিধার দিকেও নজর দেওয়া প্রয়োজন। অনেক প্রবীণ নাগরিক নিরাপত্তার কারণে পোস্ট অফিস বা সরকারি ব্যাঙ্ককে বেশি গুরুত্ব দেন, আবার অনেকে উন্নত ডিজিটাল পরিষেবার জন্য বেসরকারি ব্যাঙ্ক বেছে নেন।
10
10
বর্তমানে সুদের হারের বাজারে পোস্ট অফিসের সেভিংস অ্যাকাউন্ট তুলনামূলকভাবে বেশি রিটার্ন দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে বিনিয়োগ বা সঞ্চয়ের আগে নিজের প্রয়োজন ও আর্থিক পরিকল্পনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।