আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন অবাধ, শান্তিপূর্ণ এবং নিরপেক্ষ করতে বদ্ধপরিকর জাতীয় নির্বাচন কমিশন। তাই নির্বাচনের দিন ঘোষণার বহু আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলায় মোতায়েন হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতির সংখ্যা ততই বেড়ে চলেছে।  সূত্রের খবর, আগামী ২৩ এবং ২৯ এপ্রিল রাজ্যে বিধানসভা ভোটের দিন প্রায় দুই  থেকে আড়াই লক্ষ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান বুথ এবং ভোটারদের সুরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হবে। 

এরই মধ্যে নির্বাচনের ডিউটিতে মুর্শিদাবাদ জেলায় এসে বাহিনীর 'নিয়ম বিরুদ্ধ' কাজ করায় শাস্তির মুখে পড়লেন একটি কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৭ জন জওয়ান। নির্বাচনের কাজে যুক্ত ওই ৭ জন জওয়ানকে ইতিমধ্যেই মুর্শিদাবাদে তাঁদের  ডিউটির জায়গা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাঁদের  বিরুদ্ধে  বিভাগীয় তদন্তও শুরু করেছে কেন্দ্রের ওই বাহিনী।  সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ বিধানসভা এলাকায় বেশ কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। যদিও গত বছর সামশেরগঞ্জে অশান্তির সময় থেকেই বেশ কয়েক কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতি ওই এলাকায় রয়েছে।

নির্বাচনের ডিউটিতে মুর্শিদাবাদে এসে  সম্প্রতি একটি বাহিনীর ৭ জন জওয়ান বাহিনীর নিয়ম না মেনে এবং উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়ে একটি বিশেষ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ এবং সেখানে কয়েকজন ব্যক্তির আতিথেয়তা গ্রহণ করে তাঁদের নিমন্ত্রণ রক্ষা করেছিলেন বলেও অভিযোগ ওঠে। 

মার্চ মাসের প্রথম সপ্তাহে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওই জওয়ানরা 'আতিথেয়তা' গ্রহণ করলেও সূত্রের খবর বাহিনীর কর্তারা প্রথমে বিষয়টি জানতেন না। পরবর্তীকালে ওই 'আতিথেয়তা' গ্রহণের কয়েকটি মুহুর্তের ছবি বাহিনীর কর্তাদের নজরে আসে। বিষয় গড়ায় কমিশনের কাছে। এর পরেই দ্রুত পদক্ষেপ করা হয় ওই ৭ জওয়ানের বিরুদ্ধে । সূত্রের খবর, ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীর ৭ জওয়ানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু করা ছাড়াও  দু'জনকে ইতিমধ্যেই নিজেদের 'হেফাজতে' নেওয়া হয়েছে এবং বাকি পাঁচজনকে মুর্শিদাবাদ জেলা থেকে ইতিমধ্যেই সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। 

কেন্দ্রীয় বাহিনীর এক আধিকারিক জানান, ভোটের ডিউটি করতে আসার জন্য কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা সাম্মানিক পেয়ে থাকেন।সেই কারণে তাঁরা কারও কাছ থেকে কোনও রকম বিশেষ সুবিধা বা আতিথেয়তা নিতে পারেন না। এই ধরনের আতিথেয়তা নেওয়া বাহিনীর শৃঙ্খলা ভঙ্গের শামিল।  আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে যাতে আর কোনও জওয়ান এই ধরনের 'নিয়মবিরুদ্ধ' কাজে জড়িয়ে না পড়েন সেই কারণে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা হিসাবে ৭ জওয়ানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ করেছে ওই কেন্দ্রীয় বাহিনীর কর্তারা।