আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেরল বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইউডিএফ (UDF)-এর বড় জয়ের পর সোমবার মালায়ালি জনগণকে অভিনন্দন জানালেন লোকসভার সাংসদ তথা কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। কেরলের  মানুষের এই রায়কে 'নির্ণায়ক' বলে অভিহিত করে রাহুল বলেন, এই রাজ্যের মানুষের মধ্যে অসীম প্রতিভা এবং সম্ভাবনা রয়েছে। নবগঠিত ইউডিএফ সরকার সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে কেরলকে   এক নতুন দিশা দেখাবে বলে তিনি আশাবাদী।

এদিন ভোটের ফলাফল স্পষ্ট হতেই নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে কেরলবাসীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান রাহুল। তিনি লেখেন, "কেরলের  ভাই ও বোনদের ধন্যবাদ আমাদের ওপর আস্থা রাখার জন্য। জয়ী সকল ইউডিএফ নেতা এবং কর্মীদের জানাই অভিনন্দন, কারণ তাঁদের কঠোর পরিশ্রমের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।" তিনি আরও যোগ করেন যে, কেরলের  মানুষের জন্য ইউডিএফ-এর একটি স্বচ্ছ ভিশন রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তিনি তাঁর 'কেরল পরিবারের' সঙ্গে দেখা করতে রাজ্যে যাবেন।

?ref_src=twsrc%5Etfw">May 4, 2026

ভারতের নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কেরলে ইউডিএফ প্রায় ৮৭টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান শরিক কংগ্রেস একাই ৬৩টি আসনে আধিপত্য বজায় রেখেছে। অন্যদিকে ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (IUML) পেয়েছে ২২টি আসন। এছাড়া কেরল কংগ্রেস (জ্যাকব) এবং আরএমপিআই একটি করে আসনে জয় পেয়েছে। এই বিপুল জয়ের ফলে রাজ্যে বামেদের সরিয়ে ক্ষমতায় ফিরছে ইউডিএফ।

কেরলের  এই জয়ে কংগ্রেস শিবির উৎসবে মাতলেও, পশ্চিমবঙ্গ, অসম এবং পুদুচেরির মতো অন্যান্য রাজ্যে দলের আশানুরূপ ফল না হওয়ায় কিছুটা বিষণ্ণতার সুরও শোনা গিয়েছে দলের অন্দরে। কংগ্রেসের বর্ষীয়ান নেতা তথা সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এক্স-এ একটি পোস্টে জানান, কেরলের  মানুষ যেভাবে তাঁদের আশীর্বাদ করেছেন তার জন্য দল কৃতজ্ঞ। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন যে, অন্য রাজ্যগুলির ফলাফল প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।

জয়রাম রমেশের কথায়, কেরল ছাড়া বাকি রাজ্যগুলির নির্বাচনী ফলাফল হতাশাজনক হলেও কংগ্রেস ভেঙে পড়ার পাত্র নয়। তিনি দাবি করেন, কংগ্রেস একটি মতাদর্শগত লড়াই লড়ছে। একনায়কতন্ত্র এবং মিথ্যার বিরুদ্ধে গণতন্ত্র ও সত্যের এই পথ দীর্ঘ এবং কঠিন হতে পারে, কিন্তু তাঁরা হাল ছাড়বেন না। খুব শীঘ্রই কেন অন্য রাজ্যগুলিতে দলের ভরাডুবি হল, তা পর্যালোচনার জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেরলের জমি ফিরে পেলেও অসমে বিজেপিকে রুখতে না পারা কিংবা পশ্চিমবঙ্গ ও পুদুচেরিতে পায়ের তলার মাটি শক্ত করতে না পারা আগামী দিনে কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।