আজকাল ওয়েবডেস্ক: তামিল নববর্ষে এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের ১৫০তম জন্মজয়ন্তীতে তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের ইশতেহার প্রকাশ করল বিজেপি। মঙ্গলবার চেন্নাইয়ে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা এই ইশতেহার প্রকাশ করেন। তামিলনাড়ুকে বিশ্বের প্রাচীনতম সভ্যতার দোলনা হিসেবে অভিহিত করে নাড্ডা তাঁর ভাষণে তিরুবল্লুবর এবং সুব্রহ্মণ্য ভারতীর মতো মনিষীদের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকারকে শ্রদ্ধা জানান। তবে উৎসবের আমেজ থাকলেও বিজেপির এই ইশতেহারে একদিকে যেমন ছিল জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতির ছড়াছড়ি, অন্যদিকে ছিল রাজ্যের শাসক দল ডিএমকে-র প্রতি তীব্র আক্রমণ।

জনগণের মন জয়ে একগুচ্ছ জনমোহিনী ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। পরিবারের মহিলা প্রধানদের জন্য মাসিক ২,০০০ টাকা অনুদান, বছরে তিনটি এলপিজি সিলিন্ডার বিনামূল্যে প্রদান এবং ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে প্রতিটি পরিবারকে এককালীন ১০,০০০ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মহিলাদের স্বনির্ভর করতে ই-স্কুটার কেনার জন্য ২৫,০০০ টাকা ভর্তুকি এবং প্রথমবার ঘর কেনা মহিলাদের জন্য স্ট্যাম্প ডিউটিতে ৩ শতাংশ ছাড় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী জাল্লিকাট্টু উৎসবের প্রসারেও বিশেষ নজর দিয়েছে বিজেপি। জাল্লিকাট্টুর ষাঁড় লালন-পালনকারীদের জন্য মাসে ২,০০০ টাকা সহায়তা এবং কোনও প্রতিযোগীর মৃত্যু হলে ১০ লক্ষ টাকা বিমা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যের বড় মন্দিরগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য প্রতিদিন দু’ঘণ্টার বিশেষ দর্শনের সুযোগ রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে শুধু উন্নয়ন নয়, রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং দুর্নীতি নিয়ে স্ট্যালিন সরকারকে তুলোধোনা করেছেন নাড্ডা। তিনি অভিযোগ করেন, ডিএমকে-র শাসনে তামিলনাড়ুতে মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ডিএমকে-কে 'দুর্নীতির রক্ষাকর্তা' এবং পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতির ধারক হিসেবে চিহ্নিত করে নাড্ডা একাধিক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চাকরি ও টেন্ডার দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অপরাধ দমন করতে 'জিরো এফআইআর' ব্যবস্থা চালু করা, জঘন্য অপরাধের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠন এবং নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় বাস ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ১০০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিজেপি। সব মিলিয়ে ইশতেহার প্রকাশের মধ্য দিয়ে তামিল রাজনীতিতে পরিবর্তনের ডাক দিয়ে ভোট যুদ্ধের সুর বেঁধে দিলেন নাড্ডারা।