আজকাল ওয়েবডেস্ক:  বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও ভারতের অর্থনীতির প্রতি আস্থা দেখাল আইএমএফ। তারা ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির পূর্বাভাস বাড়িয়ে ৬.৫ শতাংশ করেছে, যা বিশ্বের চ্যালেঞ্জের মাঝেও দেশের শক্তিশালী অর্থনৈতিক ভিতের প্রতিফলন।


এই ইতিবাচক পূর্বাভাসের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হল আমেরিকার তরফে ভারতীয় পণ্যের ওপর আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক কমানো। আগে যেখানে এই শুল্কের হার প্রায় ৫০ শতাংশ ছিল, তা কমিয়ে এখন ১০ শতাংশে নামানো হয়েছে। ফলে ভারতীয় রপ্তানির ওপর চাপ অনেকটাই কমেছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার ক্ষেত্রে ভারতীয় পণ্য নতুন করে সুবিধা পাচ্ছে।


বিশ্ব অর্থনীতিতে যখন অনিশ্চয়তা বাড়ছে—বিশেষ করে মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপে চলা সংঘাতের কারণে—তখন ভারতের এই প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। তাদের মতে, ভারতের শক্তিশালী অভ্যন্তরীণ চাহিদা, কাঠামো বিনিয়োগ এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা এই বৃদ্ধির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে।


ভারতের অর্থনীতির একটি বড় শক্তি হল এর অভ্যন্তরীণ বাজার। বিশাল জনসংখ্যা এবং ক্রমবর্ধমান মধ্যবিত্ত শ্রেণি দেশের ভোগব্যয় বাড়াচ্ছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক কার্যকলাপকে চাঙ্গা রাখছে। পাশাপাশি, সরকার অবকাঠামো খাতে যে বড়সড় বিনিয়োগ করছে—যেমন সড়ক, রেল, বন্দর ও ডিজিটাল কাঠামো—তা দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়তা করছে।


এছাড়া, উৎপাদন খাতে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং বিভিন্ন প্রণোদনা প্রকল্প বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়তা করছে। এর ফলে শিল্পোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ছে, যা অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।


তবে আইএমএফ সতর্ক করে দিয়েছে যে, বিশ্বের ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামের ওঠানামা, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিঘ্ন এবং রাজনৈতিক উত্তেজনা ভারতের বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে, যদি আবার কোনও বড় সংঘাত দেখা দেয় বা বাণিজ্যিক সম্পর্কের অবনতি হয়, তাহলে রপ্তানি খাতে চাপ তৈরি হতে পারে।


তবুও এই সব চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও ভারতের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে। শক্তিশালী আর্থিক খাত, নিয়ন্ত্রিত মুদ্রাস্ফীতি এবং উন্নত নীতি কাঠামো দেশকে এই অনিশ্চয়তার মধ্যেও এগিয়ে নিয়ে যেতে সহায়তা করছে।

 


সব মিলিয়ে, ২০২৭-র জন্য ৬.৫ শতাংশ বৃদ্ধির পূর্বাভাস ভারতের অর্থনীতির জন্য একটি ইতিবাচক বার্তা। বিশ্বের অস্থিরতার মাঝেও ভারত যে স্থিতিশীল ও সম্ভাবনাময় অর্থনীতি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে এই রিপোর্ট তারই প্রমাণ।