আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে ৭ম বেতন কমিশন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা ঘিরে সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের মধ্যে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে। বিশেষ করে অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের মনে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—নতুন পেনশন চালু হলে কি অ্যারিয়ার মিলবে? যদি মেলে, তাহলে কত মাসের বকেয়া পাওয়া যেতে পারে এবং সেই হিসাব কীভাবে করা হবে?
বর্তমানে রাজ্য সরকার ৭ম বেতন কমিশনের কার্যকর হওয়ার তারিখ, নতুন পেনশন কাঠামো, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কিংবা অ্যারিয়ার সংক্রান্ত কোনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি। ফলে অ্যারিয়ার নিয়ে যে কোনও আলোচনা আপাতত সম্ভাবনার ভিত্তিতেই সীমাবদ্ধ। তবে অতীতের বিভিন্ন বেতন কমিশনের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং বাস্তবায়নের তারিখ মধ্যে ব্যবধান থাকলে অ্যারিয়ার তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, অ্যারিয়ার হল নতুন হারে প্রাপ্য অর্থ এবং পুরনো হারে পাওয়া অর্থের পার্থক্য, যা একসঙ্গে পরিশোধ করা হয়। উদাহরণ হিসেবে, যদি সরকার ঘোষণা করে যে নতুন পেনশন ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে, কিন্তু সংশোধিত পেনশন সেপ্টেম্বর মাস থেকে দেওয়া শুরু হবে, তাহলে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত সময়ের পার্থক্যের অর্থ অ্যারিয়ার হিসেবে দেওয়া হতে পারে—যদি সরকার সেই ব্যবস্থা অনুমোদন করে।
অ্যারিয়ার গণনার মূল সূত্রও খুব সহজ। প্রথমে বর্তমান বেসিক পেনশন এবং সংশোধিত বেসিক পেনশনের মধ্যে পার্থক্য বের করতে হবে। এরপর সেই পার্থক্যকে কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বাস্তবায়নের আগের মাস পর্যন্ত মোট মাসের সংখ্যা দিয়ে গুণ করলেই সম্ভাব্য অ্যারিয়ারের পরিমাণ জানা যায়।
ধরা যাক, কোনও পেনশনভোগীর বর্তমান বেসিক পেনশন ২০,০০০ টাকা এবং নতুন কাঠামোয় তা বেড়ে ৪১,৬০০ টাকা হল। সেক্ষেত্রে মাসিক বৃদ্ধি হবে ২১,৬০০ টাকা। যদি ৬ মাসের অ্যারিয়ার অনুমোদিত হয়, তাহলে সম্ভাব্য বকেয়া দাঁড়াতে পারে ১,২৯,৬০০ টাকা।
একইভাবে, যদি কারও বর্তমান বেসিক পেনশন ৩০,০০০ টাকা হয় এবং সংশোধিত বেসিক পেনশন ৬২,৪০০ টাকা ধরা হয়, তাহলে মাসিক বৃদ্ধি হবে ৩২,৪০০ টাকা। ৬ মাসের ব্যবধানে সম্ভাব্য অ্যারিয়ার হতে পারে ১,৯৪,৪০০ টাকা। তবে এই সমস্ত অঙ্ক কেবল উদাহরণমাত্র; সরকারিভাবে কোনও সংশোধিত পেনশন বা ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
অনেকেরই প্রশ্ন, অ্যারিয়ারের সঙ্গে ডিয়ারনেস রিলিফও কি দেওয়া হবে? এর উত্তর সম্পূর্ণভাবে সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশিকার উপর নির্ভর করবে। অতীতেও বিভিন্ন বেতন কমিশনের ক্ষেত্রে অ্যারিয়ার এবং ডিআর প্রদানের নিয়ম আলাদা সরকারি আদেশের মাধ্যমে নির্ধারিত হয়েছে। তাই এবারও সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এবিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
যদি ভবিষ্যতে সরকার পূর্ববর্তী কোনও কার্যকর হওয়ার তারিখ ঘোষণা করে এবং অ্যারিয়ার অনুমোদন করে, তাহলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী, পারিবারিক পেনশনভোগী এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী যোগ্য অন্যান্য পেনশনভোগীরা এর আওতায় আসতে পারেন। তবে চূড়ান্ত যোগ্যতা সরকারি নির্দেশিকাতেই নির্ধারিত হবে।
পেনশনভোগীদের এখন মূলত পাঁচটি বিষয়ের দিকে নজর রাখা উচিত—৭ম বেতন কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ, কার্যকর হওয়ার তারিখ, বাস্তবায়নের তারিখ, নতুন ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর এবং অ্যারিয়ার সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত।
সবশেষে মনে রাখা জরুরি, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সরকার অ্যারিয়ার, ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা সংশোধিত পেনশন নিয়ে কোনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেনি। তাই সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত বিভিন্ন অঙ্ক বা দাবি যাচাই না করে বিশ্বাস করা উচিত নয়। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হবে। ততদিন পর্যন্ত সম্ভাব্য অ্যারিয়ারের সমস্ত হিসাবকে শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবেই দেখা উচিত, নিশ্চিত প্রাপ্য হিসেবে নয়।
















