আজকাল ওয়েবডেস্ক: কর্মচারীদের ভবিষ্যনিধি সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা মেটাতে বড় পদক্ষেপ নিল এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন। সংস্থাটি অ্যামনেস্টি স্কিম, ২০২৬ চালু করেছে, যার মাধ্যমে ইনকাম ট্যাক্স আইনের অধীনে স্বীকৃত হলেও ইপিএফ আইনের আওতায় আনুষ্ঠানিক ছাড় না থাকা প্রভিডেন্ট ফান্ড ট্রাস্ট পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকে এককালীন সুযোগ দেওয়া হচ্ছে নিজেদের আইনি অবস্থান নিয়মিত বা বৈধ করে নেওয়ার।
প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরোর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই প্রকল্পটি ২৯ জুন, ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং মোট ছয় মাস পর্যন্ত আবেদন করা যাবে। সমস্ত নিয়োগকর্তা, অংশীদার এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলিকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
এই অ্যামনেস্টি স্কিম মূলত সেই সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য, যাদের পিএফ ট্রাস্ট ইনকাম ট্যাক্স আইনের অধীনে স্বীকৃত হলেও কেন্দ্র বা রাজ্য সরকারের তরফে ইপিএফ আইনের অধীনে কোনও আনুষ্ঠানিক এক্সেম্পশন নোটিফিকেশন নেই। অর্থাৎ, এতদিন ধরে পরিচালিত পিএফ ট্রাস্টগুলিকে আইনি স্বীকৃতির ঘাটতি পূরণের সুযোগ দিচ্ছে ইপিএফও।
যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলিকে দুটি বিভাগে ভাগ করেছে।
প্রথম বিভাগ: যেসব প্রতিষ্ঠান অতীতের পিএফ ট্রাস্টকে নিয়মিত করতে চায় এবং বর্তমানে সাধারণ ইপিএফ ব্যবস্থার অধীনে রয়েছে অথবা ভবিষ্যতেও একইভাবে থাকতে চায়।
দ্বিতীয় বিভাগ: যেসব প্রতিষ্ঠান অতীতের পিএফ ট্রাস্টকে বৈধ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতেও কোড অন স্যোশাল সিকিউরিটি ২০২০-র অধীনে এক্সেম্পটেড প্রতিষ্ঠান হিসেবেই কাজ চালিয়ে যেতে চায়।
কী কী সুবিধা মিলবে?
এই স্কিমে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা পাবে।
প্রথমত, পিএফ ট্রাস্ট গঠনের তারিখ থেকে নির্ধারিত কাট-অফ তারিখ পর্যন্ত রেট্রোস্পেকটিভ বা পূর্ববর্তী সময়ের জন্যও বৈধতা পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয়ত, কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্তে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যেমন— ন্যূনতম কর্মীর সংখ্যা, নির্দিষ্ট কর্পাস ফান্ডের বাধ্যবাধকতা এবং টানা তিন বছরের কমপ্লায়েন্সের শর্ত শিথিল করা হয়েছে।
তৃতীয়ত, যেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পিএফ বকেয়া, সুদ বা জরিমানা সংক্রান্ত মামলা বা মূল্যায়ন প্রক্রিয়া চলছে, সেগুলি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে প্রত্যাহার করা হবে। যদি কর্মীদের অ্যাকাউন্টে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অবদান ও সুদ জমা হয়ে থাকে, তবে পুরনো মামলাগুলিকে নিষ্পত্তি বলে গণ্য করা হবে। এমনকি অতীতে জারি হওয়া কিছু চূড়ান্ত আদেশও বাতিল বলে বিবেচিত হবে।
কীভাবে আবেদন করবেন?
স্কিমের সুবিধা নিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলিকে সংশ্লিষ্ট ইপিএফও-র মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে ই-মেলের মাধ্যমে আবেদন জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানের আর্থিক হিসাব একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট দিয়ে অডিট করাতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার তিন মাসের মধ্যে নির্দেশ দিলে বিশেষ বা কমপ্লায়েন্স অডিটও সম্পূর্ণ করতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের আইনি জটিলতা দূর করে পিএফ ট্রাস্টগুলিকে বৈধ কাঠামোর মধ্যে আনার ক্ষেত্রে এই অ্যামনেস্টি স্কিম ২০২৬ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। ফলে যোগ্য প্রতিষ্ঠানগুলির জন্য নির্ধারিত ছয় মাসের মধ্যেই আবেদন সম্পূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি।
















