টিভি, খবরের কাগজ বা ইন্টারনেটে যখনই কোনও ঘড়ির বিজ্ঞাপন দেখা যায়, একটু লক্ষ্য করলেই একটা অদ্ভুত জিনিস চোখে পড়ে। ঘড়িটি হাতঘড়ি হোক বা দেওয়ালঘড়ি, সব জায়গাতেই ঘড়ির কাঁটা দুটো ঠিক '১০টা ১০' বাজিয়ে স্থির হয়ে থাকে।
2
10
হঠাৎ দেখলে মনে হতে পারে এটা বুঝি এমনিই করা হয়েছে। কিন্তু আসল বিষয় তা নয়। বিজ্ঞাপনে ঘড়ির কাঁটা সব সময় ১০টা ১০ মিনিটে রাখার পেছনে দারুণ কিছু ব্যবসায়িক, বৈজ্ঞানিক এবং মানসিক কারণ রয়েছে। চলুন, খুব সেই আসল কারণগুলো বিশদে জেনে নেওয়া যাক।
3
10
*ব্র্যান্ডের লোগো পরিষ্কার দেখানোঃ বিশ্বের যত বড় বড় ঘড়ির কোম্পানি আছে (যেমন: রোলেক্স, টাইটান, ওমেগা ইত্যাদি), তারা তাদের কোম্পানির নাম বা লোগোটি ঘড়ির ডায়ালের ঠিক ওপরের দিকে, অর্থাৎ ১২টার চিহ্নের ঠিক নিচে বসায়।
4
10
এখন কাঁটা দুটো যদি ১০টা ১০ মিনিটে থাকে, তবে ঘণ্টার কাঁটা থাকে ১০-এর ঘরে আর মিনিটের কাঁটা থাকে ২-এর ঘরে। ফলে দুটো কাঁটা মিলে ওপরের দিকে একটা সুন্দর ফাঁকা জায়গা তৈরি করে। এই ফাঁকা জায়গার ঠিক মাঝখানে ব্র্যান্ডের লোগোটি একদম পরিষ্কারভাবে ফুটে ওঠে, কোনও কাঁটার আড়ালে ঢাকা পড়ে না। ফলে ক্রেতারা সহজেই ব্র্যান্ডের নাম দেখতে পান।
5
10
*অবচেতন মনে 'হাসিমুখ'-এর ছোঁয়াঃ এটি একটি দারুণ মনস্তাত্ত্বিক খেলা। ঘড়ির কাঁটা যখন ১০টা ১০-এ থাকে, তখন দূর থেকে দেখলে মনে হয় ঘড়িটি যেন 'হাসছে'। বিজ্ঞানের মতে, মানুষের মন যে কোনও হাসিমুখের ছবি দেখে পজিটিভ বা ইতিবাচক সাড়া দেয়। ঘড়ির এই হাসিমুখ ক্রেতার মনে অজান্তেই একটা আনন্দ ও স্বস্তির অনুভূতি তৈরি করে, যা তাকে ঘড়িটি কিনতে উদ্বুদ্ধ করে।
6
10
*অতীতে ৮টা ২০ রাখা হতো এবং পরে সেটি বদলানো হয়। ঘড়ি আবিষ্কারের শুরুর দিকে বিজ্ঞাপনে কাঁটা দুটোকে রাখা হতো ৮টা ২০ মিনিটে। এতেও কিন্তু ১২টার নিচের লোগোটি পরিষ্কার দেখা যেত। কিন্তু পরে কোম্পানিগুলো খেয়াল করল, ৮টা ২০ মিনিটে কাঁটা রাখলে ঘড়ির মুখটি দেখতে উল্টো 'V'-এর মতো বা একটি 'দুঃখী মুখ'-এর মতো লাগে।
7
10
বিজ্ঞাপনে এমন মুখ দেখলে ক্রেতার মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে ভেবে কোম্পানিগুলো ৮টা ২০-এর আইডিয়া বাদ দিয়ে ১০টা ১০-এর নিয়ম চালু করে।
8
10
*ঘড়ির অন্যান্য ডিজাইন লুকিয়ে না ফেলা: আজকালকার আধুনিক ঘড়িগুলোতে শুধু সময় দেখা যায় না, পাশাপাশি ছোট ছোট ঘরে তারিখ (Date) দেখা যায় কিংবা স্টপওয়াচের মতো ছোট ছোট আরও ৩-৪টি ডায়াল থাকে। এই অতিরিক্ত ডিজাইনগুলো সাধারণত ঘড়ির ডান দিকে (৩টার ঘরে), নিচে (৬টার ঘরে) বা বাম দিকে (৯টার ঘরে) থাকে। কাঁটা দুটো ১০টা ১০-এ থাকলে এই গুরুত্বপূর্ণ ফিচার বা ডিজাইনগুলোর ওপর কোনো কাঁদা পড়ে না, ফলে ক্রেতা ঘড়ির সব কটি কাজ এক নজরে দেখে নিতে পারেন।
9
10
*নিখুঁত ভারসাম্য ও সৌন্দর্য: ১০টা ১০ মিনিটে ঘণ্টার ও মিনিটের কাঁটার দূরত্ব এবং অবস্থান একদম সমান ও সুষম দেখায়। এই নিখুঁত জ্যামিতিক ভারসাম্যের কারণে ঘড়িটিকে দেখতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় এবং সুন্দর লাগে।
10
10
তাহলে একথা বলাই যায়, বিজ্ঞাপনে ১০টা ১০ বাজার এই রহস্যটি কোনও কাকতালীয় বিষয় নয়। এটি হল নিখুঁত জ্যামিতি, মানুষের মন বোঝার ক্ষমতা এবং বুদ্ধিমান বিপণন কৌশলের এক অপূর্ব মেলবন্ধন।