আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাসে মাত্র ২,০০০ টাকা বিনিয়োগ করে কি সত্যিই ১ কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব? আর্থিক বিশেষজ্ঞদের মতে, উত্তর হল হ্যাঁ—তবে এর জন্য প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, নিয়মিত বিনিয়োগ এবং ধৈর্য। সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানের মাধ্যমে ছোট অঙ্কের মাসিক বিনিয়োগও সময়ের সঙ্গে কম্পাউন্ডিংয়ের শক্তিতে বিশাল তহবিলে পরিণত হতে পারে।


তবে কত দিনে ১ কোটি টাকার লক্ষ্য পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে আপনার বিনিয়োগের উপর প্রাপ্ত গড় বার্ষিক রিটার্নের ওপর। উদাহরণ হিসেবে ধরা যাক, যদি বছরে গড়ে ১০ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে মাসে ২,০০০ টাকা এসআইপি করে ১ কোটি টাকার তহবিল গড়তে প্রায় ৩৮ বছর সময় লাগতে পারে। একইভাবে, বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্নে সময় কমে দাঁড়াতে পারে প্রায় ৩৩ বছর। আর যদি দীর্ঘ সময় ধরে গড়ে ১৫ শতাংশ হারে রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে প্রায় ২৮ বছরেই ১ কোটি টাকার লক্ষ্য ছোঁয়া সম্ভব হতে পারে। তবে এগুলি শুধুই আনুমানিক হিসাব। বাজারের ওঠানামার কারণে প্রকৃত রিটার্ন ভিন্ন হতে পারে।


এর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল কম্পাউন্ডিংয়ের শক্তি। প্রথম কয়েক বছরে আপনার মূলধন মূলত মাসিক বিনিয়োগের মাধ্যমে বাড়ে। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই বিনিয়োগ থেকে পাওয়া লাভও আবার নতুন করে আয় করতে শুরু করে। অর্থাৎ, শুধু মূল টাকা নয়, লাভের উপরও লাভ জমতে থাকে। এই কারণেই আর্থিক বিশেষজ্ঞরা বলেন, "বাজারে বেশি সময় থাকা, বাজারের সময় ধরার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।"


যত তাড়াতাড়ি এসআইপি শুরু করা যায়, ততই লাভ। ধরুন, কেউ যদি ২০ বছর বয়সেই মাসে ২,০০০ টাকা করে বিনিয়োগ শুরু করেন, তাহলে তাঁর হাতে থাকবে তিন থেকে চার দশকের দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ই কম্পাউন্ডিংকে সবচেয়ে কার্যকর করে তোলে। অন্যদিকে, ৪০ বছর বয়সে একই অঙ্কের এসআইপি শুরু করলে ১ কোটি টাকার লক্ষ্য পূরণ করতে অনেক বেশি মাসিক বিনিয়োগের প্রয়োজন হতে পারে।


এর আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং। বাজার যখন পড়ে যায়, তখন একই টাকায় বেশি ইউনিট কেনা যায়। আবার বাজার চড়লে কম ইউনিট কেনা হয়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে বাজারের ওঠানামার প্রভাব অনেকটাই কমে যায় এবং বিনিয়োগের গড় খরচও ভারসাম্যপূর্ণ থাকে।
তবে শুধু এসআইপি শুরু করলেই হবে না, সঠিক মিউচুয়াল ফান্ড নির্বাচন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

 সাধারণত লার্জ-ক্যাপ ফান্ড তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল এবং কম ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগকারীদের জন্য উপযুক্ত। মিড-ক্যাপ ফান্ডে ঝুঁকি কিছুটা বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে ভালো বৃদ্ধির সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে, স্মল-ক্যাপ ফান্ড দীর্ঘ সময়ের জন্য উচ্চ রিটার্ন দিতে পারে, তবে এগুলির ঝুঁকিও তুলনামূলকভাবে বেশি।


যাঁরা আরও দ্রুত ১ কোটি টাকার লক্ষ্য ছুঁতে চান, তাঁরা প্রতি বছর আয় বৃদ্ধির সঙ্গে তাল মিলিয়ে এসআইপি-র অঙ্ক ১০ থেকে ১৫ শতাংশ করে বাড়াতে পারেন। পাশাপাশি নিয়মিত পোর্টফোলিও পর্যালোচনা করা এবং বাজারের সাময়িক ওঠানামায় বিচলিত না হয়ে দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ ধরে রাখাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তবে মনে রাখতে হবে, উপরের সমস্ত হিসাব শুধুমাত্র উদাহরণ হিসেবে দেওয়া হয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ বাজারের ঝুঁকির অধীন এবং অতীতের রিটার্ন ভবিষ্যতে একইভাবে পাওয়া যাবে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই বিনিয়োগের আগে নিজের আর্থিক লক্ষ্য, ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং প্রয়োজন হলে একজন যোগ্য আর্থিক উপদেষ্টার পরামর্শ নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

&t=1s