বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং শেয়ার বাজারের ওঠানামার মধ্যেও ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে হাইব্রিড মিউচুয়াল ফান্ডে বিপুল বিনিয়োগ হয়েছে। এএমএফআই তথ্য অনুযায়ী, এই সময়ে হাইব্রিড ফান্ডে মোট বিনিয়োগ এসেছে ১.৫৫ লক্ষ কোটি, যা আগের অর্থবর্ষের তুলনায় প্রায় ২৯ শতাংশ বেশি।
2
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিশ্চিত বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগের পথ খুঁজছেন। সেই কারণেই হাইব্রিড ফান্ডের জনপ্রিয়তা দ্রুত বেড়েছে। এই ধরনের ফান্ডে সাধারণত শেয়ার, ঋণপত্র এবং অনেক ক্ষেত্রে সোনার মতো সম্পদে একসঙ্গে বিনিয়োগ করা হয়, ফলে ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে।
3
8
অস্থির বাজার পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা ভারসাম্যপূর্ণ বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছেন। বিশেষ করে মাল্টি অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড জনপ্রিয়তা পেয়েছে, কারণ এই ফান্ডগুলি বিভিন্ন বাজার পরিস্থিতিতেও তুলনামূলক স্থিতিশীল রিটার্ন দিতে সক্ষম।
4
8
২০২৬ সালের মার্চ মাসে হাইব্রিড ফান্ডের মোট ফোলিও সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১.৯ কোটি, যা এক বছর আগে ছিল ১.৫৬ কোটি। অর্থাৎ এক বছরে নতুন করে যুক্ত হয়েছে প্রায় ৩৪ লক্ষ বিনিয়োগকারী। একই সঙ্গে এই ফান্ডগুলির অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট বেড়ে ১০.৩৫ লক্ষ কোটিতে পৌঁছেছে, যা আগের বছরে ছিল ৮.৮৩ লক্ষ কোটি।
5
8
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ে শুধুমাত্র ইক্যুইটি বা শেয়ারভিত্তিক বিনিয়োগে ঝুঁকি বেশি থাকায় বিনিয়োগকারীরা বৈচিত্র্যময় পোর্টফোলিওর দিকে ঝুঁকছেন। গত অর্থবর্ষে বিশ্ববাজারে একাধিক বড় ঘটনা বাজারকে প্রভাবিত করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক নীতি নিয়ে উদ্বেগ, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান সংঘাত বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
6
8
এই সময়ে সোনার দামও শক্তিশালী ছিল, যা মাল্টি-অ্যাসেট ও হাইব্রিড ফান্ডগুলিকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। অনেক হাইব্রিড ফান্ড স্বল্পমেয়াদে খাঁটি ইক্যুইটি ফান্ডের তুলনায় বেশি স্থিতিশীল এবং ভালো রিটার্ন দিতে পেরেছে। ফলে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে এই ফান্ডের প্রতি আস্থা বেড়েছে।
7
8
রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় যখন তেলের দাম বেড়ে যায় এবং শেয়ার বাজারে তীব্র ওঠানামা শুরু হয়, তখন হাইব্রিড ফান্ড বিনিয়োগকারীদের জন্য সুরক্ষার কাজ করে। কারণ এই ফান্ডে ঋণপত্রের অংশ থাকায় বাজার পড়লেও ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হয়।
8
8
বিশেষ করে মাল্টি-অ্যাসেট অ্যালোকেশন ফান্ড এবং আর্বিট্রাজ ফান্ডে বিনিয়োগ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। কম ঝুঁকি ও কর সাশ্রয়ের সুবিধার কারণেই এই ধরনের ফান্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।