আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতীয় শেয়ার বাজারে নতুন ইতিহাস গড়ল বিএসই লিমিটেড। সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির ঘোষণার পর মঙ্গলবার এবং বুধবার টানা দ্বিতীয় দিনের জন্য জোরালো উত্থান দেখা গেল বিএসই-র শেয়ারে। লেনদেন চলাকালীন সংস্থার শেয়ারের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ স্তর ৪,০৩২.৯০ টাকায় পৌঁছে যায়।


বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্র সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের জেরে বাজারে ট্রেডিং কার্যকলাপ বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। আর সেই কারণেই বিনিয়োগকারীরা বিএসই-র শেয়ারে ব্যাপক আগ্রহ দেখাচ্ছেন।


সম্প্রতি কেন্দ্র সরকার সোনা ও রুপোর আমদানি শুল্ক ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করেছে। সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হল বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং টাকার উপর চাপ হ্রাস করা। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধি ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারের উপর চাপ তৈরি হয়েছে। সেই পরিস্থিতিতে অপ্রয়োজনীয় আমদানি কমানোর দিকেই জোর দিচ্ছে কেন্দ্র।


বিশেষ করে ভারতে সোনার চাহিদা অত্যন্ত বেশি। বিয়ে ও উৎসবের মরশুমে বিপুল পরিমাণ সোনা আমদানি করতে হয়। ফলে ডলার খরচও অনেক বেড়ে যায়। সরকার মনে করছে, শুল্ক বাড়ালে সোনার আমদানি কিছুটা কমবে এবং দেশের বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে।


এই ঘোষণার পরেই আর্থিক বাজারে বড়সড় প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্লেষকদের মতে, সোনা ও অন্যান্য পণ্যের বাজারে দামের ওঠানামা বাড়লে শেয়ার বাজারে ট্রেডিং ভলিউমও বাড়ে। এর সরাসরি সুবিধা পায় স্টক এক্সচেঞ্জগুলি, কারণ লেনদেন বাড়লে তাদের আয়ও বৃদ্ধি পায়।


সেই কারণেই বিএসই-র শেয়ারে বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ আরও বেড়েছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভারতীয় শেয়ার বাজারে খুচরো বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণও অনেক বেড়েছে। নতুন ডিম্যাট অ্যাকাউন্ট খোলা, ডেরিভেটিভ ট্রেডিং এবং ইক্যুইটি লেনদেন বৃদ্ধির ফলে বিএসই-র ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।


এছাড়াও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও ডিজিটাল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের প্রসারও বিএসই-কে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গিয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার আয় বৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখছেন অনেক বিশ্লেষক।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, কেন্দ্র সরকারের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের বাড়তি সক্রিয়তার ফলে আগামী দিনেও বিএসই-র শেয়ারে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সংস্থার পারফরম্যান্স বাজারে বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।

 

&t=1s
অন্যদিকে, সোনা ও রুপোর দাম বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের উপর চাপ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বিয়ের মরশুমের আগে এই সিদ্ধান্ত গয়নার বাজারে প্রভাব ফেলতে পারে। তবুও সরকার বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে এই পদক্ষেপকে জরুরি বলেই মনে করছে।