আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শেয়ারবাজারে শুক্রবার বড় ধাক্কা দেখা গেল। টানা পাঁচ দিনের ঊর্ধ্বমুখী যাত্রার পর এদিন শুরু থেকেই তীব্র বিক্রির চাপে ভেঙে পড়ে দেশের দুই প্রধান সূচক সেনসেক্স ও নিফটি। মূলত তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শেয়ারে ব্যাপক পতনের জেরে বাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি হয়। 


আন্তর্জাতিক আইটি পরিষেবা সংস্থা অ্যাসেনচার তাদের রাজস্ব বৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি আগামী দিনে প্রযুক্তি পরিষেবার চাহিদা দুর্বল থাকার ইঙ্গিত দেওয়ায় ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির শেয়ারে বড় ধরনের বিক্রি শুরু হয়। বিএসই সেনসেক্স ৮২৮.১৮ পয়েন্ট বা ১.০৭ শতাংশ কমে ৭৬,৫৮১.৮০-এ লেনদেন করছিল। অন্যদিকে এনএসই নিফটি ২২৫.১০ পয়েন্ট বা ০.৯৩ শতাংশ নেমে ২৩,৯৪২.৯০-এ পৌঁছে যায়। এর ফলে নিফটি ফের ২৪ হাজারের গুরুত্বপূর্ণ স্তরের নীচে নেমে আসে, যা বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। 


খাতভিত্তিক সূচকগুলির মধ্যে প্রায় সবকটিতেই পতন দেখা যায়। একমাত্র ফার্মা সূচক কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে ছিল। তবে সবচেয়ে বেশি ধাক্কা খায় আইটি খাত। নিফটি আইটি সূচক প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যায় এবং সূচকের অন্তর্ভুক্ত ১০টি সংস্থার শেয়ারই লাল চিহ্নে লেনদেন করতে থাকে। 


একই সঙ্গে নিফটি স্মলক্যাপ ১০০ সূচক প্রায় ০.২ শতাংশ এবং নিফটি মিডক্যাপ ১০০ সূচক প্রায় ০.৫ শতাংশ দুর্বল হয়। বাজারে সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি সংস্থাগুলি। নিফটি ৫০ সূচকের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি শেয়ারই ছিল আইটি খাতের। 
ইনফোসিসের শেয়ার প্রায় ৭.৬ শতাংশ পর্যন্ত পড়ে যায়। টেক মহিন্দ্রা ৬.৩ শতাংশ, টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস ৬ শতাংশ, এইচসিএলটেক ৫.৩ শতাংশ এবং উইপ্রোর শেয়ার ৩.৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়। 


এই ব্যাপক পতন গোটা বাজারের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাসেনচারের সাম্প্রতিক মন্তব্য ভারতীয় আইটি শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে ব্যয়ের গতি প্রত্যাশার তুলনায় মন্থর রয়েছে। ফলে বড় আইটি প্রকল্পের সংখ্যা এবং নতুন চুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা কমতে পারে। 


এই কারণেই বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির শেয়ার থেকে মুনাফা তুলে নিতে শুরু করেছেন। গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষকরাও জানিয়েছেন, এই ফলাফল ভারতীয় আইটি কোম্পানিগুলির জন্য নেতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে। তাঁদের মতে, বিশ্বব্যাপী চাহিদার ভবিষ্যৎ এখনও স্পষ্ট নয় এবং প্রযুক্তি পরিষেবার বাজারে অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। 

 

ফলে আগামী কয়েকটি ত্রৈমাসিকেও ভারতীয় আইটি সংস্থাগুলির আয় বৃদ্ধির উপর চাপ থাকতে পারে। এদিকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের লেনদেনের দিকেও বাজারের নজর রয়েছে। যদি বিদেশি তহবিলের বিক্রির প্রবণতা বাড়তে থাকে, তাহলে বাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। 


তবে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাজারের এই সংশোধনকে অনেকেই সম্ভাব্য বিনিয়োগের সুযোগ হিসেবেও দেখছেন। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক বাজারের সংকেত, আইটি খাতে দুর্বল চাহিদার আশঙ্কা এবং বড় সংস্থাগুলির শেয়ারে ব্যাপক বিক্রির জেরে সপ্তাহের শেষ দিনে ভারতীয় শেয়ারবাজারে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা গেল। আগামী সপ্তাহে বিশ্বের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অবস্থান এবং আইটি খাতের নতুন আপডেটের উপরই বাজারের পরবর্তী দিকনির্দেশ অনেকটাই নির্ভর করবে।

&t=4s