আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের সঙ্গীত শিল্পে কপিরাইট সুরক্ষা এবং রয়্যালটি ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা হল। কেন্দ্র সরকার ১৯৫৭ সালের কপিরাইট আইনের আওতায় পিপিএল-কে আনুষ্ঠানিকভাবে কপিরাইট সোসাইটি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে ভারতে সাউন্ড রেকর্ডিং বা রেকর্ড করা গানের লাইসেন্সিং ও কপিরাইট ব্যবস্থার জন্য একটি সুস্পষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর ফলে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান, শিল্পী এবং সঙ্গীত সংস্থাগুলি সকলেই উপকৃত হবেন।


১৯৪১ সালে প্রতিষ্ঠিত পিপিএল ইন্ডিয়া দেশের অন্যতম প্রাচীন সংস্থা। বর্তমানে সংস্থাটি প্রায় ৫০০টি দেশি-বিদেশি মিউজিক লেবেলের প্রতিনিধিত্ব করে। এর মধ্যে রয়েছে টি-সিরিজ, সোনি মিউজিক, ইউনিভার্সাল মিউজিক, টাইমস মিউজিক, লাহারি মিউজিক, আদিত্য মিউজিক এবং গ্লোবাল রিদমসের মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলি। পিপিএল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সাউন্ড রেকর্ডিং ক্যাটালগ পরিচালনা করে এবং হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিং মল, অফিস, খুচরো বিপণি, বিভিন্ন অনুষ্ঠান, রেডিও স্টেশনসহ বহু বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে গান বাজানোর জন্য লাইসেন্স প্রদান করে।


সংস্থাটি অলাভজনক ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। বাণিজ্যিকভাবে গান ব্যবহারের জন্য সংগৃহীত লাইসেন্স ফি থেকে প্রশাসনিক ব্যয় বাদ দিয়ে বাকি অর্থ কপিরাইট মালিক, মিউজিক লেবেল এবং শিল্পীদের মধ্যে আইন অনুযায়ী রয়্যালটি হিসেবে বণ্টন করা হয়। ফলে শিল্পীদের সৃষ্টিশীল কাজের ন্যায্য আর্থিক মূল্য নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পিপিএল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


এই কাজকে ভারতীয় সঙ্গীত শিল্পের জন্য একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পিপিএল-র আইনি মর্যাদা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। অনেক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান দাবি করত যে পিপিএল কপিরাইট সোসাইটি হিসেবে নিবন্ধিত নয়, তাই তারা লাইসেন্স ফি দিতে বাধ্য নয়। এর ফলে বহু মিউজিক লেবেল এবং শিল্পী তাদের গানের বাণিজ্যিক ব্যবহারের যথাযথ রয়্যালটি থেকে বঞ্চিত হচ্ছিলেন।


এখন কপিরাইট সোসাইটি হিসেবে সরকারি স্বীকৃতি পাওয়ার ফলে পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। যেসব ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান অনুমতি ছাড়া কপিরাইট-সুরক্ষিত গান ব্যবহার করছে, তাদের এখন প্রয়োজনীয় লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে এবং নির্ধারিত ফি প্রদান করতে হবে। এর ফলে সংগৃহীত রয়্যালটি সরাসরি অধিকারপ্রাপ্ত শিল্পী ও মিউজিক লেবেলগুলির কাছে পৌঁছাবে।


এই স্বীকৃতি প্রসঙ্গে পিপিএলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জি বি আইয়র বলেন, কপিরাইট সোসাইটি হিসেবে পাওয়া সংস্থা এবং তাদের প্রতিনিধিত্বকারী মিউজিক লেবেলগুলির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। তিনি কেন্দ্র সরকার এবং শিল্প ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য উন্নয়ন বিভাগকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ভবিষ্যতেও পিপিএল স্বচ্ছ ও দক্ষ কপিরাইট ব্যবস্থা, সহজ লাইসেন্সিং প্রক্রিয়া এবং শিল্পীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।


অন্যদিকে পিপিএল ইন্ডিয়ার চেয়ারম্যান মন্দার ঠাকুর বলেন, এর ফলে ভারতে সাউন্ড রেকর্ডিং অধিকারের সমষ্টিগত প্রশাসন আরও শক্তিশালী হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিকভাবে গান ব্যবহার করে, তাদের জন্য কপিরাইট আইন মেনে সহজ ও স্বচ্ছভাবে লাইসেন্স পাওয়ার পথ আরও সুগম হবে। 

 

&t=4s
বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিল্পী, মিউজিক লেবেল এবং বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের মধ্যে কপিরাইট সংক্রান্ত স্বচ্ছতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সঙ্গীত শিল্পে ন্যায্য রয়্যালটি বণ্টন নিশ্চিত করে ভারতীয় মিউজিক ইন্ডাস্ট্রির দীর্ঘমেয়াদি বিকাশেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।