আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শেয়ার বাজারে রক্তক্ষরণ চলছেই। সেনসেক্স এবং নিফটি টানা পঞ্চম দিনের মতো পতনের মুখে। এদিন সেনসেক্স প্রায় ৭০০ পয়েন্ট বা ০.৮০% ভেঙে পৌঁছায় ৮৩,৫০৬.৭৯ স্তরে। একইসঙ্গে নিফটি ৫০ সূচকও ০.৮০% নেমে দিনের নিম্নে ২৫,৬৬৫.১৫ স্থানে পৌঁছায়। বিএসই মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সূচকগুলো ১ শতাংশেরও বেশি পতন দেখায়।
গত পাঁচ সেশনে সেনসেক্স মোট ২,২০০ পয়েন্ট বা প্রায় ২.৬% হারিয়েছে, অন্যদিকে নিফটি ৫০ প্রায় ২.৫% কমেছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, ধারাবাহিক পতন বাজারের অস্থিরতা ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিক্রির চাপকে আরও স্পষ্ট করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার ট্রাম্পের “লিবারেশন ডে” শুল্ক ব্যবস্থার ওপর রায় দিতে যাচ্ছে। বাজারের একাংশের মতে, যদি আদালতের রায় ট্রাম্পের বিপক্ষে যায়, তাহলে বাজার কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে। কিন্তু বিপরীত রায় পরিস্থিতিকে আরও জটিল করতে পারে।
উদ্বেগের আরও একটি কারণ হল রিপাবলিকান সেনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের সাম্প্রতিক মন্তব্য। তিনি ৭ জানুয়ারি জানান যে, ট্রাম্প রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বিল সমর্থন করেছেন, যার ফলে রাশিয়া থেকে তেল কেনা দেশগুলির বিরুদ্ধে মার্কিন শুল্ক কমপক্ষে ৫০০%-এ পৌঁছাতে পারে।
বিনিয়োগকারীরা কর্পোরেট ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছেন। খুচরা বিক্রেতা ডিমার্ট শনিবার ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকের ফল প্রকাশ করবে। অন্যদিকে আইটি জায়ান্ট টিসিএস এবং এইচসিএল টেক সোমবার ফল ঘোষণা করবে। টানা কয়েক ত্রৈমাসিক দুর্বল আয়ের পর বিশ্লেষক মহলের প্রত্যাশা যে এরপর থেকে আয়ের উন্নতি দেখা যেতে পারে। তবে প্রত্যাশা পূরণ না হলে তা নিশ্চিতভাবেই বাজারের জন্য বড় নেতিবাচক হবে। এরফলে বিদেশি মূলধন প্রবাহ আরও সমস্যায় পড়তে পারে।
এদিকে ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে অনিশ্চয়তাও বাজারে চাপ বাড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আশা করা হচ্ছিল ভারত প্রথম দিকের দেশগুলোর মধ্যে থাকবে যাদের সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত একটি বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করবে। কিন্তু বহু দফা আলোচনার পরও দুই দেশ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি বিলম্বিত হলে তা বাজার মনোভাবকে নেতিবাচক করবে এবং ভারতের তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্স দীর্ঘায়িত হতে পারে।
সর্বোপরি, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নানা অনিশ্চয়তা, বিদেশি পুঁজির ধারাবাহিক বহির্মুখ প্রবণতা, রাজনৈতিক চাপ এবং আয়ের সিজনের আগে সতর্ক অবস্থানের ফলে বাজারে বিক্রির চাপ অব্যাহত রয়েছে। সেখান থেকে বাজারের হাল নিচের দিকে থাকাটাই স্বাভাবিক।
